হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রবল জনরোষের মুখে পড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অভিযোগ, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা, ইট ও জুতো ছোড়া হয়। পাশাপাশি ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগানও। পরিস্থিতির মধ্যে কোনওরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন মমতা। পরে বিজেপির কর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আরেকটু হলেই মরে যেতাম।”
হালিশহরে জনরোষের মুখে মমতা
হালিশহর থানায় তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তোলাবাজির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর স্ত্রী জেনি শর্মা কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর। আদালত পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়ার পর বিরজুকে হালিশহর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, রাতে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। কিন্তু মধ্যরাতে আচমকাই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, থানার ভিতরে বিরজুকে মারধর করা হয়েছিল এবং সেই কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আজ হালিশহরে পৌঁছন দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। অভিযোগ, মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়া হয়। এমনকি গাড়ির কাচেও কাদা লেপে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শান্তিপূর্ণ এলাকাকে অশান্ত করতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে এসেছেন।
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমার তো মাথা ফেটে যেতে পারত। আমরা হয়তো সবাই মরে যেতাম। পুলিশের সামনে এই ধরনের হামলা আমরা আগে কখনও দেখিনি।” তাঁর অভিযোগ, পুলিশ নিষ্ক্রিয় থেকে বিজেপিকে সুরক্ষা দিয়েছে এবং পুলিশের সামনেই তাঁর গাড়িতে ইট ছোড়া হয়েছে। মমতার আরও দাবি, মৃত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রীকেও তাঁর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে লকআপে পুলিশি ‘থার্ড ডিগ্রি’-র অভিযোগও তোলেন তিনি। গোটা ঘটনার জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেই দায়ী করেছেন।
