প্রচণ্ড গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। মাঝে মধ্যে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও তাতে খুব একটা স্বস্তি মিলছে না। এই সময় অনেকেই শরীর ঠান্ডা রাখতে নুন-চিনির শরবত বা বিভিন্ন পানীয়ের উপর নির্ভর করেন (Health Tips) । তবুও সারাদিন ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা কিংবা দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর অন্যতম কারণ হল গরমের সময় কিছু খাবার শরীরে জলের ঘাটতি বাড়িয়ে দেয় এবং হজমের উপরও বাড়তি চাপ ফেলে। তাই এই মৌসুমে সুস্থ থাকতে শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কী এড়িয়ে চলছেন সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আজকের প্রতিবেদনে রইল গরমে শরীর ভালো রাখতে কিছু জরুরি পরামর্শ এবং কোন খাবারগুলি এই সময় কম খাওয়া বা এড়িয়ে চলা উচিত সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
ভাজাভুজি (Health Tips)
গরমের সময় ভাজাভুজি খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভালো। সন্ধ্যা হলেই কচুরি, শিঙাড়া, চিকেন ফ্রাই, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিংবা বিভিন্ন ধরনের তেলেভাজা খেতে ইচ্ছে করলেও এই মৌসুমে সেগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার শরীরে অস্বস্তি বাড়াতে পারে, হজমের উপরও বাড়তি চাপ ফেলে। পাশাপাশি এগুলি খাওয়ার পর অনেকেরই বেশি তৃষ্ণা, অম্বল বা পেটের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই গরমকালে সুস্থ থাকতে ভাজাভুজি খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
তেল মশলাযুক্ত খাবার
গরমের দিনে অনেকেরই খিদে কমে যায়, আর সেই সময় অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার খেলে শরীরে আরও অস্বস্তি বাড়তে পারে। ভারী ও ঝাল খাবার হজম করতে বেশি সময় লাগে, ফলে অম্বল, গ্যাস বা পেটের গোলমালের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকেরা এই সময় হালকা, সহজপাচ্য এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এমন খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। বাড়িতে তৈরি কম তেল-মশলার খাবার, ফল, শাকসবজি ও পর্যাপ্ত তরল খাদ্য গরমের জন্য বেশি উপযোগী।
চিজ পনির
গরমের দিনে কখনোই অতিরিক্ত চিজ বা পনির সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত নয়। কারণ এগুলিতে প্রচুর ক্যালোরি থাকে। তাই এসবের পরিবর্তে সতেজ ফল ও সবজি কিংবা টক দই মেশানো স্যালাড খাওয়াই ভালো। এক্ষেত্রে টমেটো বেশ আদর্শ বিকল্প।
চা-কফি
গরমের দিনে অনেকেই অভ্যাসবশত বারবার চা বা কফি পান করেন। তবে অতিরিক্ত ক্যাফিনযুক্ত পানীয় এই সময় শরীরের জন্য খুব একটা উপকারী নয়। চা ও কফি বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে জলের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে, যার ফলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে যখন শরীর ঘামের মাধ্যমে অনেকটা জল হারায়, তখন পর্যাপ্ত জল ও অন্যান্য তরল পানীয় গ্রহণ করাই বেশি জরুরি। তাই গরমের মৌসুমে চা-কফির পরিমাণ কমিয়ে ডাবের জল, লেবুর শরবত বা সাধারণ জল বেশি পান করাই ভালো।
