সকালে জলে ভিজিয়ে রাখা কাঠবাদাম খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। ভিটামিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর এই বাদাম শরীরের জন্য বেশ উপকারী। কেউ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে, কেউ হাড় মজবুত করতে, আবার কেউ স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ভালো রাখতে নিয়মিত কাঠবাদাম খান। তবে মনে রাখতে হবে, বেশি পরিমাণে কাঠবাদাম খেলেই বেশি উপকার মিলবে—এমন নয়। অতিরিক্ত খেলে ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে এবং হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিন ঠিক কতটি কাঠবাদাম খাওয়া উচিত এবং কীভাবে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়, সে বিষয়ে পুষ্টিবিদ সোমোশ্রী চট্টোপাধ্যায়ের পরামর্শ জেনে নেওয়া যাক।
কাঠবাদামে থাকা মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন ই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে, যা ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে, বলিরেখা কমাতে এবং ত্বককে মসৃণ রাখতে সহায়তা করে। কাঠবাদামে আরও রয়েছে ক্যালশিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়াম, যা হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে এবং হাড়কে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত কাঠবাদাম খেলে বয়স বাড়ার সঙ্গে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকিও অনেকটাই কমানো সম্ভব। কাঠবাদামে রয়েছে ফাইবার, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। রোজ সকালে খালিপেটে আমন্ড খেলে গোটা দিন এনার্জি পাবেন ভরপুর। পাশাপাশি আমন্ডের ভিটামিন ই ব্রেনের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। স্মৃতিশক্তি ভাল রাখতে নিয়মিত আমন্ড খান।
খোসা-সহ না কি খোসা ছাড়া কাঠবাদাম
অনেকেই সকালে খালি পেটে সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখা কাঠবাদাম খেয়ে থাকেন। তবে অনেকেরই প্রশ্ন, খোসাসহ খাবেন নাকি খোসা ছাড়িয়ে? পুষ্টিবিদদের মতে, খোসাসহ কাঠবাদাম খাওয়াই বেশি উপকারী, কারণ এর খোসায় প্রচুর ফাইবার থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া খোসায় থাকা পলিফেনল নামের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে। তাই বিশেষ কোনও শারীরিক সমস্যা না থাকলে শুধু ভিজিয়ে নিয়ে খোসাসহ কাঠবাদাম খাওয়াই ভালো, আলাদা করে খোসা ছাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
খোসা ছাড়া কাঠবাদাম খেলে কী হবে
অনেকেই কাঠবাদামের খোসার স্বাদ বা গঠন পছন্দ করেন না। সেক্ষেত্রে খোসা ছাড়িয়েও খেতে পারেন, তবে এতে খোসায় থাকা কিছু ফাইবার ও উপকারী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থেকে বঞ্চিত হতে হবে। পুষ্টিবিদদের মতে, কাঠবাদামের খোসায় ফাইবারের পরিমাণ বেশি হলেও অতিরিক্ত ফাইবার একসঙ্গে খেলে কিছু মানুষের পেট ফাঁপা, গ্যাস বা হজমের সমস্যা হতে পারে। তাই নিজের শরীরের সহনশীলতা অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে খোসাসহ বা খোসা ছাড়িয়ে কাঠবাদাম খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
রোজ ঠিক কটা কাঠবাদাম খাওয়া উপকারী
পুষ্টিবিদ সোমোশ্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বেশি উপকারের আশায় একসঙ্গে অনেক কাঠবাদাম খাওয়া মোটেও ঠিক নয়। কাঠবাদামে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা গুড ফ্যাট (HDL-সমর্থক ফ্যাট) থাকলেও এটি ক্যালোরিতে সমৃদ্ধ। তাই অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি পরামর্শ দেন, সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রতিদিন ৪-৫টি কাঠবাদাম খাওয়াই যথেষ্ট। এই পরিমাণে নিয়মিত খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়, আবার অতিরিক্ত ক্যালোরিও গ্রহণ করতে হয় না।
কারা আমন্ড খাবেন না?
যাঁদের সারা বছরই পেট ফাঁপা, গ্যাস বা হজমের সমস্যা লেগে থাকে, তাঁদের প্রতিদিন কাঠবাদাম খাওয়া সবার ক্ষেত্রে উপযুক্ত নাও হতে পারে। কাঠবাদামে থাকা ফাইবার ও অন্যান্য উপাদান কিছু মানুষের ক্ষেত্রে গ্যাস, অম্বল বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট খনিজ (যেমন ফসফরাস বা পটাশিয়াম) নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তাঁদেরও নিয়মিত কাঠবাদাম খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
