মাছ ছাড়া বাঙালির খাবারের পাতে যেন পরিপূর্ণতা আসে না। বড় রুই, কাতলা থেকে শুরু করে নানা ধরনের ছোট মাছ—প্রতিটিরই রয়েছে আলাদা স্বাদ ও জনপ্রিয়তা। তেমনই একটি সুস্বাদু মাছ হল লইট্টা মাছ। সাধারণত পেঁয়াজ-রসুন দিয়ে লইট্টার ঝাল বা ভুনা রান্নাই বেশি প্রচলিত। তবে একই স্বাদের রান্না থেকে একটু বদল আনতে চাইলে এবার বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন গন্ধরাজ লইট্টা। গন্ধরাজ লেবুর মনমাতানো সুবাস আর লইট্টা মাছের অনন্য স্বাদের মেলবন্ধনে তৈরি এই পদ গরম ভাতের সঙ্গে জমে যাবে। রইল সহজ রেসিপি।
গন্ধরাজ লইট্টা তৈরির উপকরণ
এই সুস্বাদু পদটি তৈরি করতে লাগবে—
- লইট্টা মাছ – ৫০০ গ্রাম
- গন্ধরাজ লেবু – ১টি
- গন্ধরাজ লেবুর পাতা – ৪–৫টি
- পেঁয়াজ কুচি – ২টি মাঝারি
- আদা বাটা – ১ চা-চামচ
- রসুন বাটা – ১ চা-চামচ
- হলুদ গুঁড়ো – ½ চা-চামচ
- কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো – ১ চা-চামচ
- কাঁচা লঙ্কা – ৪–৫টি (চেরা)
- নুন – স্বাদমতো
- সর্ষের তেল – প্রয়োজনমতো
রান্নার পদ্ধতি
প্রথমে বাজার থেকে আনা লইট্টা মাছ ভালো করে ধুয়ে পরিমাণমতো নুন মাখিয়ে নিন। এরপর গন্ধরাজ লেবুর সবুজ খোসা গ্রেট করে মাছের ওপর ছড়িয়ে দিন এবং সামান্য গন্ধরাজ লেবুর রস মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। এদিকে আদা ও রসুন একসঙ্গে ব্লেন্ড করে পেস্ট বানিয়ে ম্যারিনেট করা মাছে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। এবার কড়াইতে অল্প সর্ষের তেল গরম করে কুচি করা পেঁয়াজ হালকা বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন। তারপর নুন, হলুদ গুঁড়ো ও শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে মশলাগুলো ভালো করে কষিয়ে নিন। শেষে ম্যারিনেট করা লইট্টা মাছ কড়াইতে দিয়ে সবকিছু আলতোভাবে মিশিয়ে ঢেকে রান্না করুন। এই রান্নায় আলাদা করে জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ লইট্টা মাছ থেকেই যথেষ্ট জল বের হবে এবং সেই জলেই মাছ সুন্দরভাবে সেদ্ধ হয়ে দারুণ স্বাদ তৈরি করবে।
৩-৪ মিনিট পর লইট্টা মাছগুলোর মধ্যে আদা বাটা, রসুন বাটা দিয়ে দিতে হবে। ভালো করে নাড়াচাড়া করার পর। ধীরে ধীরে মাছের মশলাগুলো যখন কষে আসবে তখন ওপর থেকে ফের গন্ধরাজ লেবুর সবুজ অংশটি সামান্য ঘষে দিতে হবে এবং তার সঙ্গে গন্ধরাজ লেবুর রসও মিশিয়ে দিতে হবে। ৫-৭ মিনিট পুনরায় ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রেখে দিতে হবে। সময় হয়ে এলে নামিয়ে নিতে হবে পুরো রান্নাটা। ব্যাস, তারপরেই তৈরি গন্ধরাজের লইট্টা।
