এবার বিশ্বকাপ খেলবে ভারত? ফিফার বড় পরিকল্পনায় বাড়ছে স্বপ্নপূরণের আশা

-

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দিনে ফুটবল বিশ্বকাপে শুধু ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা অন্য কোনও বিদেশি দলকে সমর্থন নয়, বরং নিজের দেশের হয়েই গলা ফাটানোর সুযোগ পেতে পারেন কোটি কোটি ভারতীয় ফুটবলপ্রেমী। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবার ৪৮টি দল অংশ নেওয়ায় টুর্নামেন্টটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সেই সাফল্যের পর এবার বিশ্বকাপকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে ফিফা। জানা গিয়েছে, ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন।

এশিয়ার বিশ্বকাপ কোটা কতটা বাড়তে পারে?

ফিফার এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের আরও বেশি দেশকে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া এবং খেলাটিকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তোলা। ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে ও কুরাসাওয়ের মতো তুলনামূলক ছোট ফুটবল শক্তির নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখার পর নতুন দেশগুলিকে বিশ্বমঞ্চে সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আরও উৎসাহী হয়েছে ফিফা। যদি ২০৩০ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা সত্যিই ৬৪ করা হয়, তাহলে এশিয়ার জন্য বরাদ্দ বিশ্বকাপের কোটা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ভারতের মতো দেশগুলোর বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনাও আগের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। যদিও ভারতের যোগ্যতা অর্জন নির্ভর করবে দলের পারফরম্যান্স ও বাছাইপর্বের ফলাফলের ওপর, তবুও বাড়তি কোটার ফলে বহু বছরের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন বাস্তবের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

- Advertisement -

কেন বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবছে ফিফা?

বর্তমান ৪৮ দলের বিশ্বকাপ ফরম্যাটে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (AFC) সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার কোটা আগের ৪.৫ থেকে বেড়ে ৮টি সরাসরি এবং ১টি আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের সুযোগসহ মোট ৮.৫ হয়েছে। এখন যদি ২০৩০ সাল থেকে বিশ্বকাপে ৬৪টি দল অংশ নেয়, তাহলে অতিরিক্ত ১৬টি দেশের জন্য জায়গা তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে মহাদেশভিত্তিক কোটাও নতুন করে বাড়ানো হতে পারে। যদি এশিয়াও সেই অতিরিক্ত কোটার উল্লেখযোগ্য অংশ পায়, তাহলে এএফসি-এর সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট ১১ বা ১২টির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে ফুটবল মহলে আলোচনা চলছে। এর ফলে ভারতের মতো উন্নয়নশীল ফুটবল দেশগুলোর বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা আগের তুলনায় অনেকটাই বাড়বে। তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে ভারতকে অবশ্যই বাছাইপর্বে ভালো পারফরম্যান্স করে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

বিশ্বকাপে খেলতে ভারতকে কী কী চ্যালেঞ্জ পার করতে হবে?

তবে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়লেই যে ভারতের মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত হয়ে যাবে, এমনটা নয়। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে ব্লু টাইগার্সদের মাঠের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের উন্নতি আনতে হবে। বর্তমানে এশিয়ার শীর্ষ ফুটবল শক্তি হিসেবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, অস্ট্রেলিয়া এবং সৌদি আরবকে এগিয়েই রাখা হয়। এছাড়া কাতার, ইরাক, উজবেকিস্তান, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দলগুলিও বিশ্বকাপের টিকিটের অন্যতম দাবিদার। তাই এশিয়ার বাড়তি কোটার সুবিধা পেতে হলে ভারতকে নিয়মিতভাবে ওমান, বাহরিন, সিরিয়া, চীন এবং ভিয়েতনামের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করতে হবে। অর্থাৎ, বাড়তি কোটা ভারতের সুযোগ অবশ্যই বাড়াবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে দলের ধারাবাহিক উন্নতি ও বাছাইপর্বে সফল পারফরম্যান্সের ওপরই।

- Advertisement -

২০৩০ বিশ্বকাপে কি সত্যিই খেলতে পারবে ভারত?

ফিফার এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ভারতীয় ফুটবলের জন্য নিঃসন্দেহে আশার নতুন আলো দেখাচ্ছে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়লে ভারতের মতো উন্নয়নশীল ফুটবল দেশগুলোর সামনে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগও বাড়বে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের ফুটবল পরিকাঠামো, গ্রাসরুট উন্নয়ন এবং তরুণ ফুটবলারদের মানসিকতায়। তবে সেই সুযোগকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে ভারতীয় ফুটবলকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। এখন সবার নজর থাকবে, ফিফা শেষ পর্যন্ত ৬৪ দলের বিশ্বকাপের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় কি না এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সুনীল ছেত্রীর উত্তরসূরিরা একদিন ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে ভারতের তেরঙ্গা উড়াতে পারেন কি না।

🔔 সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে যুক্ত হন

ব্রেকিং নিউজ, চাকরির খবর, টেক আপডেট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের WhatsAppTelegram চ্যানেলে এখনই যুক্ত হন।

Breaking News