Homeদেশ ও বিদেশআন্তজাতিক খবরফের উস্কে গেল ২১০ বছরের পুরনো লিপুলেখ বিবাদ, ভারতের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের দ্বারস্থ...

ফের উস্কে গেল ২১০ বছরের পুরনো লিপুলেখ বিবাদ, ভারতের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের দ্বারস্থ নেপাল!

-

লিপুলেখ নিয়ে ভারত ও নেপালের সীমান্ত বিরোধ নতুন কোনও বিষয় নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে (India-Nepal Problem)। নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরার মতো বিতর্কিত এলাকাগুলিকে নেপালের অংশ বলে দাবি করেছেন। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি নেপালের সংসদে তিনি বলেন যে ভারত ও নেপাল উভয় দেশই একে অপরের দাবি করা কিছু ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে লিপুলেখ ইস্যুর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ভারত এবং নেপালের বিবাদে হস্তক্ষেপ করবে ব্রিটেন? (India-Nepal Problem)

সম্প্রতি ভারত ও চিনের সম্পর্কের উন্নতির পর বহু প্রতীক্ষিত কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা ফের শুরু হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। তবে এই যাত্রাকে ঘিরেই নতুন করে আপত্তি তুলেছে নেপাল। কারণ, মানস সরোবর যাত্রার অন্যতম প্রধান রুট হল লিপুলেখ গিরিপথ, যেটিকে নেপাল দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। নেপালের মতে, এই বিতর্কিত এলাকা ব্যবহার করে যাত্রা পরিচালনা করা তাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে ভারত বরাবরই লিপুলেখকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করেছে এবং নেপালের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

- Advertisement -

ভারত ও নেপালের মধ্যে লিপুলেখ গিরিপথ নিয়ে বিরোধের ইতিহাস বেশ পুরনো, যার শিকড় ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি পর্যন্ত বিস্তৃত। ভারত, নেপাল ও চিনের সীমান্ত সংলগ্ন এই অঞ্চলটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরাখণ্ডের ধারচুলাকে তিব্বতের পুরাং অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করা এই গিরিপথ দীর্ঘদিন ধরে ভারত-চিন বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। পাশাপাশি কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার ক্ষেত্রেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন কারণে এই পথের ব্যবহার সীমিত থাকলেও সম্প্রতি আবারও তা চালু হয়েছে, ফলে অঞ্চলটির ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

কয়েকটি রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, ভারত এবং নেপালের মধ্যেকার লিপুলেখ বিবাদ যেহেতু ব্রিটিশ আমলের মূলত সে কারণেই প্রতিবেশীর সাথে বিবাদ প্রসঙ্গে গোটা বিষয়টি এবার ব্রিটেন সরকারের কাছে উত্থাপন করতে পারেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত নেপালের অনুরোধ মেনে ব্রিটেন বা ব্রিটিশ সরকার যদি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর নালিশ শুনে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে যায় তবে তা ভারত, নেপাল এবং সর্বোপরি ব্রিটেনের জন্য বড়সড়ো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

- Advertisement -
- Advertisement -
Breaking News
- Advertisement -
Related Stories
- Advertisement -