সাদিকুল খান, কলকাতাঃ ফের ডলারের বিপরীতে মুখ থুবড়ে পড়ল ভারতীয় টাকা (Indian Rupee)। সামান্য ঘুরে দাঁড়ানোর পর আবারও আগের জায়গায় ফিরে গেল ইন্ডিয়ান রুপি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ায় তেলের দাম প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। এর প্রভাবেই ভারতীয় মুদ্রার এই পতন বলে মনে করা হচ্ছে। গতকালের তুলনায় আজ ৮০ পয়সা কমে প্রতি ডলারের বিনিময়ে ভারতীয় টাকার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৫.৮৩ টাকা। ফলে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ যে আরও বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
ডলারের বিপরীতে মূল্যপতন ভারতীয় রুপির
গতকাল বাজার বন্ধের সময় প্রতি ডলারের দাম ছিল ৯৫.০৩ টাকা। কিন্তু আজ বাজার খুলতেই একধাক্কায় ৮০ পয়সা কমে নতুন রেট দাঁড়িয়েছে ৯৫.৮৩ টাকা। সম্প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বেরিয়ে যাওয়ার কারণে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মূল্য কমছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতকে প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের মুদ্রার উপর।
এ বিষয়ে ফরেক্স ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারের দুর্বল পরিস্থিতি এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পুঁজি তুলে নেওয়ার প্রবণতাও টাকার উপর চাপ বাড়াচ্ছে। এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। গত বুধবার ক্রুড অয়েলের দাম ২.৯৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০.৭৩ ডলারে পৌঁছেছিল।
এছাড়া ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান পরিমাপকারী ডলার ইনডেক্সের মূল্যও অনেকটাই বেড়েছে। ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং রুপির মূল্য তলানিতে ঠেকার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। আজ সেনসেক্সের পাশাপাশি নিফটিরও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকা মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রিজার্ভ ব্যাংক সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করলে রুপি আবারও আগের অবস্থানে ফিরতে পারে।
