ইরান-সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও LPG-এর দামে দ্রুত উর্ধ্বগতি দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনার পথে হাঁটছে ভারত। জানা যাচ্ছে, সমুদ্রের জলের নিচ থেকে তৈরি হচ্ছে বিশেষ পাইপলাইন। এবার থেকে সেই পাইপ লাইন ধরেই ভারতে আসবে বিপুল পরিমাণ গ্যাস! মোটা টাকা ব্যয় করে ভবিষ্যতের জন্য বড় প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে নয়া দিল্লি (Indias New Plan Regarding LPG )।
সমুদ্রের নিচ থেকেই ভারতে আসবে LPG? (Indias New Plan Regarding LPG )
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখতে ভারত সরকার বড় একটি কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওমান থেকে গুজরাত পর্যন্ত সমুদ্রের নিচ দিয়ে একটি গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। এই অবস্থায় জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন এই পাইপলাইন চালু হলে সমুদ্রপথের উপর নির্ভরতা কমে সরাসরি গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ওমান থেকে গুজরাত পর্যন্ত জলের তলদেশ দিয়ে যে পাইপলাইন যাবে তা প্রায় 2,000 কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। এই পাইপলাইন সমুদ্রের 3,450 মিটার গভীরে পাতা হবে বলেই খবর। এর ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম গভীরতম সমুদ্র গর্ভস্থ পাইপলাইন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। জানা যাচ্ছে, সমুদ্রের নিচ থেকে এই পাইপলাইন ধরেই প্রতিদিন 31 মিলিয়ন মেট্রিক স্টান্ডার্ড কিউবিক মিটার গ্যাস পরিবহন সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রস্তাবিত সমুদ্রের নিচের পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারত আর কোনও তৃতীয় দেশ বা ট্রানজিট রুটের উপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না। এর ফলে সরাসরি ওমান থেকে গুজরাত পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভারতীয় সংস্থাগুলিও লাভবান হবে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, শীঘ্রই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া, GAIL এবং Indian Oil Corporation-এর মতো সংস্থাগুলিকে এই প্রকল্প সংক্রান্ত নতুন নির্দেশ দিতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
