ধনধান্য স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের উদ্যোগে পালিত হল কন্যারত্ন দিবস। কন্যাশিশুদের শিক্ষা, ক্ষমতায়ন ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার বার্তা তুলে ধরতেই এই বিশেষ দিনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং মন্ত্রী মালতী রাভা রায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ভাবনাকে সামনে রেখে নারীশিক্ষার প্রসার ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচিতে যুক্ত হল রাজ্য
তাঁর দাবি, রাজ্যের আট মাসের বাজেটে কর্মসংস্থানে মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি নারীশিক্ষা, মহিলা কলেজ এবং উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও ছাত্রী যাতে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য না হন, সেজন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চালু থাকলেও এতদিন পশ্চিমবঙ্গ এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল না, এবার রাজ্যও এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে।
২০ লক্ষের বেশি ছাত্রী পাবেন আর্থিক সহায়তা
মুখ্যমন্ত্রী এদিন কন্যাদের পাশে থাকার অঙ্গীকারের কথাও জানান। তিনি বলেন, রাজ্যের ছাত্রীরা যেন শিক্ষাক্ষেত্রে এবং সমাজকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে, সেটাই সরকারের লক্ষ্য। আগামী দিনে কন্যারা স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরার মতো সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরে মোট ২০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রী আগের সরকারের চালু করা কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা পাবে। ইতিমধ্যেই ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে ১০ লক্ষের বেশি ছাত্রীর জন্য অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যে সমস্ত বিদ্যালয় দ্রুত ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে, সেই স্কুলের ছাত্রীরা তত দ্রুত আর্থিক সুবিধা পেয়ে যাবে।
উচ্চশিক্ষার জন্য ছাত্রীদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, উচ্চশিক্ষায় যাতে অর্থ কোনও বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্য ছাত্রীদের ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাজেটে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনও ১০০ দিন পূর্ণ হয়নি এবং বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে নতুন নতুন প্রকল্প চালুর কাজ চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় স্বামী বিবেকানন্দের নামে একটি নতুন প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় যেতে ইচ্ছুক ছাত্রীরা আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই প্রকল্পের জন্য ১০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বর্তমানে কন্যারত্নরা যে ১,০০০ টাকা করে অনুদান পান, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তা দ্বিগুণ করে ২,০০০ টাকা করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
