রাজ্যজুড়ে ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবার তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতেও। নদিয়ার করিমপুর এলাকার একাধিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং প্রসূতি মায়েদের নিয়মিত ডিম দেওয়া আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গিয়েছে। কারণ, বর্তমান বাজারদরে ডিম কিনে আগের বরাদ্দের মধ্যে পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। এর ফলে উপভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পুষ্টিকর খাবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ডিম না পাওয়ায় শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
অঙ্গনওয়াড়িতে দেওয়া হচ্ছে না ডিম
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা হয়। সেই নিয়ম মেনে প্রতি সপ্তাহে সোমবার, বুধবার ও শুক্রবার শিশু ও মায়েদের ভাতের সঙ্গে একটি করে গোটা ডিম দেওয়ার কথা। তবে ডিমের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত ১ জুলাই থেকে নদিয়ার করিমপুর ১ ও ২ ব্লকের প্রায় সাড়ে ছয়শো অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ডিম সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের দাবি, সরকার প্রতিটি ডিমের জন্য ৬ টাকা ৫০ পয়সা বরাদ্দ দিলেও বর্তমানে বাজারে একটি ডিম কিনতে প্রায় ৮ টাকা বা তারও বেশি খরচ হচ্ছে। এই বাড়তি খরচ বহন করা সম্ভব না হওয়ায় আপাতত ডিম দেওয়া বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক করিমপুরের এক বাসিন্দা জানান, গ্রামের বহু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে নিয়মিত ডিম কিনে খাওয়ানো সম্ভব হয় না। তাই শিশু, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের পুষ্টির জন্য তাঁরা অনেকটাই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের খাবারের উপর নির্ভর করেন। তাঁর কথায়, ডিম দেওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এদিকে করিমপুর–২ ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিডিপিও তাপস বিশ্বাস জানান, ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আপাতত ডিম সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই জেলা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত এক থেকে দেড়’মাসের মধ্যে ডিমের দাম ট্রে প্রতি বেড়ে গিয়েছে ৪০ টাকা। যার জেরে খুচরো দোকানেও প্রতি পিস ডিমের রেট বেড়েছে ১ থেকে ১.৫০ টাকা। এই ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণ নিয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশনের সভাপতি মদন মাইতি জানিয়েছেন, “মুরগির খাবারের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি হচ্ছে। সেই কারণেই মুরগি প্রতিপালনে খরচ বাড়ছে চাষিদের। তাই কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণেই ডিমের দামও চড়ছে। তবে আশা করা হচ্ছে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই ডিমের দাম কমবে।”
