কলকাতায় ফের তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভবানীপুর এলাকার এক ব্যবসায়ীর দাবি, নিজেকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য পরিচয় দিয়ে একটি বিদেশি নম্বর থেকে তাঁকে ফোন ও ভয়েস মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যবসায়ীর কাছে ৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, টাকা না দিলে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং হুমকির উৎস ও সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী ভবানীপুরের শরৎ বোস রোডের বাসিন্দা। তিনি ইতিমধ্যেই ভবানীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩০ জুন একটি আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে প্রথম ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে ৫ কোটি টাকা দাবি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে ব্যবসায়ী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ফোন নম্বর, ভয়েস মেসেজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীর অভিযোগ, প্রথম ফোনের পর বিষয়টি আর থেমে থাকেনি। গত প্রায় এক মাস ধরে একাধিক বিদেশি নম্বর থেকে তাঁকে বারবার ফোন এবং ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিনিয়ত ৫ কোটি টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত টাকা না দিলে ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। বর্তমানে অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত করছে এবং হুমকির উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। ইতিমধ্যেই মামলাটি পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী ইউনিটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা হুমকির জন্য ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক ফোন নম্বরগুলির উৎস, কলের প্রযুক্তিগত তথ্য, আইপি ট্রেইল এবং পাঠানো ভয়েস মেসেজের সত্যতা খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে কোনও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র বা অন্য কোনও গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
