বাংলার কৃষকদের জন্য চালু থাকা ‘কৃষক বন্ধু’ ও ‘বাংলা শস্য বিমা’ প্রকল্পের নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী (Krishak Bandhu)। নতুন সরকারের দাবি, কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ না করে সেগুলিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সেই অনুযায়ী ‘কৃষক বন্ধু’কে ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মাননিধি যোজনা’ এবং ‘বাংলা শস্য বিমা’কে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’-র আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তনের ঘোষণা ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে।
বদলে যাচ্ছে কৃষক বন্ধু ও শস্য বীমার নাম (Krishak Bandhu)
পশ্চিমবঙ্গের কৃষিক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মন্ডল দাবি করেছেন, আগের সরকারের আমলে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে অনেক চাষি ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই এবার কৃষি সংক্রান্ত সমস্ত কাজ নতুন গাইডলাইন মেনে পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে, পূর্বতন সরকারের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পকে ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মাননিধি যোজনা’ (PM Kisan)-এর কাঠামোয় আনা হবে এবং ‘বাংলা শস্য বিমা’-র পরিবর্তে চালু করা হবে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’।
তবে কৃষক বন্ধু প্রকল্প নিয়ে কড়া সমালোচনা করে কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, এই প্রকল্পের তালিকায় বহু ভুয়ো নাম ঢুকে থাকতে পারে। তাই সঠিকভাবে ঝাড়াই বাছাই করে তবেই প্রকল্পের সুবিধা প্রদান করা হবে। যারা ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মাননিধি যোজনার আওতায় রয়েছেন, তাদেরকে নতুন করে আবেদন করতে হবে না। কিন্তু কৃষক বন্ধুর তালিকায় থাকা উপভোক্তাদের নতুন করে নাম নথিভুক্ত করতে হবে বলে জানিয়েছেন দুধকুমার মন্ডল।
সরকার পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে সদস্যদের গণ-ইস্তফার খবর সামনে আসার মধ্যেই এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মন্ডল। তাঁর বক্তব্য, অনেক পঞ্চায়েত সদস্য অযথা ভয় পেয়ে পদত্যাগ করছেন। তিনি বলেন, কেউ যদি কোনও অন্যায় বা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকেন, তাহলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচন পর্যন্ত প্রায় আড়াই বছর রাজ্য সরকার সব পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে এবং প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে।
