অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন ঘিরে রাজ্যজুড়ে মহিলাদের ভিড় বাড়তে থাকায় এবার বড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার (Annapurna Bhandar)। ১৩ পাতার দীর্ঘ আবেদনপত্র পূরণ করতে গিয়ে যাতে সাধারণ মানুষ সমস্যায় না পড়েন, তার জন্য বিভিন্ন সরকারি অফিস ও নির্দিষ্ট সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে ফর্ম পূরণে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আবেদনকারীর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন এবং তথ্য যাচাইয়ের জন্য আলাদা সহায়তা ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে আবেদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে এবং মহিলাদের অযথা ভোগান্তি কমবে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বড় উদ্যোগ রাজ্যের (Annapurna Bhandar)
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই এখন অনলাইন পদ্ধতি বেছে নিলেও গ্রামীণ এলাকার বহু মহিলা এখনও ডিজিটালভাবে ফর্ম পূরণে স্বচ্ছন্দ নন। আবার অফলাইনেও দীর্ঘ ফর্ম ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের কারণে অনেকের সমস্যা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে রাজ্য সরকারের তরফে বিশেষ জনকল্যাণ শিবির আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই শিবিরে গিয়ে আবেদনকারীরা সরাসরি ফর্ম পূরণ, নথি জমা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারবেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত এই বিশেষ শিবির চলবে এবং এই সময়ের মধ্যেই আবেদন সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
কিন্তু আপনার এলাকায় কবে এই শিবির বা ক্যাম্প বসবে তা আপনি বাড়িতে বসে অনলাইনের মাধ্যমে দেখে নিতে পারবেন। এর জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি অফিসিয়াল সাইট লঞ্চ করা হয়েছে, যেটির আইপি এড্রেস হল https://jks.wb.gov.in/ । এই ওয়েবসাইটে ঢুকে প্রথমে প্রকল্পের জায়গায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সিলেক্ট করতে হবে। তারপর নিজের জেলা, ব্লক এবং গ্রাম পঞ্চায়েত বা ওয়ার্ড সিলেক্ট করলেই কোন তারিখে আপনার এলাকায় শিবির বসবে তা আপনি নিজে থেকে দেখে নিতে পারবেন এবং সেই শিবিরে গিয়েই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম জমা করতে পারবেন।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আবেদন শুরু হওয়ার প্রথম ১৬ দিনের মধ্যেই মোট ৮৯ লক্ষ ৯৪ হাজার ২১৩ জন মহিলা আবেদন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ আবেদন যাচাই করে জুন মাসেই ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাকি আবেদনগুলিও ধাপে ধাপে যাচাই করে আগামী জুলাই মাস থেকে সুবিধা দেওয়া শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তবে যারা এখনও আবেদন করতে পারেননি, তাদের জন্যও সুযোগ থাকছে—কারণ আবেদন জমা দেওয়ার জন্য ৯০ দিনের সময়সীমা রাখা হয়েছে। অনলাইন ও অফলাইন—দুই ভাবেই আবেদন করা যাবে। আর যাঁরা ফর্ম পূরণে সমস্যায় পড়ছেন, তাঁদের জন্য আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন বিশেষ জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে সরাসরি আবেদনপত্র পূরণ ও জমা দেওয়ার সুবিধা রাখা হয়েছে।
