ডিজিটাল পেমেন্টের যুগে কোটি কোটি ভারতীয় প্রতিদিন PhonePe ব্যবহার করেন। কেউ ইউপিআইয়ের মাধ্যমে বিল মেটান, কেউ আবার অনলাইনে কেনাকাটা বা টাকা পাঠানোর জন্য এই অ্যাপের উপর নির্ভর করেন। এর মধ্যেই PhonePe ব্যবহারকারীদের একাংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তনের ঘোষণা সামনে এসেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে PhonePe Wallet ব্যবহার না করলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ‘ইনঅ্যাকটিভিটি মেইনটেন্যান্স ফি’ বা নিষ্ক্রিয়তা রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ কাটা হতে পারে। এই ঘোষণা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং অনেক ব্যবহারকারী এ নিয়ে নিজেদের মতামতও জানাতে শুরু করেছেন।
PhonePe ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ঘোষণা
এখানে অংশটি একটু আরও স্বাভাবিক ও পাঠকবান্ধব করে সাজিয়ে দিলাম—
সংস্থার নতুন নীতি অনুযায়ী, কোনও ব্যবহারকারী যদি টানা ৩৬৫ দিন PhonePe Wallet থেকে কোনও আর্থিক লেনদেন না করেন, তাহলে সেই ওয়ালেটকে ‘নিষ্ক্রিয়’ হিসেবে ধরা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত ইনঅ্যাকটিভিটি মেইনটেন্যান্স ফি কাটা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই নিয়ম সব ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শুধুমাত্র যাঁদের ওয়ালেটে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনও ধরনের লেনদেন হয়নি, তাঁরাই এই চার্জের আওতায় আসতে পারেন। অর্থাৎ, নিয়মিত UPI ব্যবহার করলেও যদি Wallet আলাদা করে ব্যবহার না করা হয়, তাহলে সেটি নিষ্ক্রিয় হিসেবে গণ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
এই ঘোষণা সামনে আসার পর অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ বর্তমানে অধিকাংশ গ্রাহকই PhonePe Wallet ব্যবহার না করে সরাসরি নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে UPI পেমেন্ট করে থাকেন। প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও টিপস্টার অভিষেক যাদবও সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে জানিয়েছেন, বহু মানুষ নিয়মিত PhonePe অ্যাপ ব্যবহার করলেও Wallet পরিষেবাটি আলাদা করে ব্যবহার করেন না। ফলে নতুন নিয়ম সম্পর্কে অনেকেই আগে থেকে জানতেন না। PhonePe-র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শুধুমাত্র অ্যাপ খুলে দেখা, ব্যালেন্স চেক করা বা UPI-এর মাধ্যমে টাকা পাঠানোকে Wallet-এর কার্যকলাপ হিসেবে ধরা হবে না। Wallet সক্রিয় রাখতে হলে অন্তত একবার Wallet-ভিত্তিক আর্থিক লেনদেন করতে হবে, নইলে দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকলে সংশ্লিষ্ট নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
সংস্থা জানিয়েছে, কোনও চার্জ কেটে নেওয়ার আগে ব্যবহারকারীদের ১৫ দিনের নোটিশ পাঠানো হবে। এই সময়ের মধ্যে গ্রাহক চাইলে Wallet ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টটি পুনরায় সক্রিয় করতে পারবেন। যদি Wallet-এ পর্যাপ্ত টাকা থাকে, তাহলে সেখান থেকেই ১০০ টাকা পর্যন্ত চার্জ কেটে নেওয়া হবে। আর যদি ব্যালেন্স ১০০ টাকার কম হয়, তাহলে উপলব্ধ অর্থই কেটে নেওয়া হবে এবং Wallet-এর ব্যালেন্স শূন্য হয়ে যাবে। তবে কোনও অবস্থাতেই Wallet-এ ঋণাত্মক বা নেগেটিভ ব্যালেন্স তৈরি হবে না বলে জানিয়েছে সংস্থা।
যদিও এই ধরনের ফি আরোপের বিষয়টি ডিজিটাল পেমেন্ট শিল্পে একেবারে নতুন নয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর আগেও কিছু সংস্থা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা ওয়ালেটের ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ চালু করেছিল। সেই দিক থেকে দেখলে PhonePe-র এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই একই ধরনের নীতির অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যবহারকারীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ বর্তমানে বহু মানুষ মূলত UPI-এর মাধ্যমেই লেনদেন করেন এবং Wallet পরিষেবা আলাদা করে ব্যবহার করেন না। তাঁদের মতে, এতে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মত, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ওয়ালেট পরিচালনা, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ সামলাতেই সংস্থাগুলি এ ধরনের নীতি গ্রহণ করে থাকে। এখন দেখার বিষয়, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা কতটা এগোয় এবং ভবিষ্যতে অন্য সংস্থাগুলিও একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় কি না।
