হার স্বীকার নয়, মমতার বার্তা স্পষ্ট—নতুন সরকার গঠনে কী বাধা?

-

হারিয়েছেন গদি, তবুও পদ ছাড়তে নারাজ—এমনটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন Mamata Banerjee। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। কিন্তু বাস্তব ছবিটা একেবারেই আলাদা—West Bengal Election 2026-এর ফল বলছে ২০৭টি আসন পেয়ে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। আর ১৫ বছরের শাসন শেষে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। গণতান্ত্রিক কাঠামোয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে জোর করে ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়।

কী রয়েছে বিকল্প উপায়?

আজ বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি হারিনি, আমাকে জোর করে হারানো হয়েছে—তাহলে আমি কেন ইস্তফা দেব?”—এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তিনি যদি পদত্যাগ না করেন তাহলে নতুন সরকার গঠন করবে কীভাবে বিজেপি। সংবিধান অনুযায়ী, বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই রাজ্যপাল পরিস্থিতি অনুযায়ী হস্তক্ষেপ করতে পারেন। তিনি চাইলে বর্তমান সরকারকে আস্থা ভোটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলতে পারেন। আর তা সম্ভব না হলে মুখ্যমন্ত্রীকে অপসারণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক দিকটা একটু স্পষ্ট করে বলা দরকার—Mamata Banerjee ইস্তফা না দিলেও রাজ্যপাল সরাসরি “অধ্যাদেশ জারি করে বরখাস্ত” করেন—এটা পুরোপুরি সঠিক ব্যাখ্যা নয়। বাস্তবে রাজ্যপাল সাধারণত প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীকে আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলেন, কারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আসল পরীক্ষা হয় বিধানসভাতেই। তাই দ্বিতীয় পথটাই বেশি ব্যবহৃত এবং গ্রহণযোগ্য—বিশেষ অধিবেশন ডেকে ফ্লোর টেস্টের নির্দেশ দেওয়া। যদি সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে মুখ্যমন্ত্রীকে পদ ছাড়তেই হয়। আর যদি সেই অবস্থাতেও পদ না ছাড়েন, তখন রাজ্যপাল তাঁকে অপসারণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।

এছাড়াও একাধিক উপায় রয়েছে রাজ্যপালের হাতে। তৃতীয়ত, তিনি সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দিতে পারেন। আর যদি একবার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয় তাহলে এমনিতেই সব ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে চলে যাবে। সেক্ষেত্রে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এমনিতেই গদিচ্যুত হবেন। এছাড়াও রাজ্যপাল মমতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তিনি আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়ে পদ ছাড়তে বাধ্য হবেন। এখন দেখার মমতা ব্যানার্জি আদৌ স্বেচ্ছায় নিজের পদ ছাড়েন কিনা।

Breaking News