ক্ষমতার নেশা ২ দিনে কেটে যাবে’, ইস্তফা বিতর্কে মমতাকে খোঁচা দিলীপের

-

বাংলার রাজনীতিতে বড় পালাবদলের আবহে তীব্র বিতর্ক—বিধানসভা নির্বাচনে দুশোর বেশি আসন জিতে ক্ষমতায় আসতে চলেছে পদ্মশিবির। আর সেই প্রেক্ষিতেই নিয়ম অনুযায়ী বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দেওয়ার কথা উঠেছে। কিন্তু তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি হারেননি, তাই পদত্যাগের প্রশ্নই নেই। এই অবস্থায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। কারণ বিজেপির নেতা দিলীপ ঘোষ বুধবার সকালে কটাক্ষ করে তাঁকে ডোনাল্ড ট্রাম্পে-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “উনি শাড়ি পরা ট্রাম্প, ২ দিন পর ক্ষমতার নেশা কেটে যাবে।

কলকাতার ইকো পার্কে প্রতিদিনের মতোই প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে বুধবার সকালে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। আর সেখানেই তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েকে। ইস্তফা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দু’দিনের মধ্যে ওঁর ক্ষমতার নেশা কেটে যাবে, তারপর কালীঘাটে ফিরে যাবেন—জনতা ওঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে,” পাশাপাশি আরও কড়া সুরে কটাক্ষ করে যোগ করেন, “উনি এখন পাবলিক ম্যান্ডেটও মানছেন না। একেবারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো—ট্রাম্প যেমন বলেছিলেন তিনি হারেননি, তেমনই অবস্থায় আছেন উনি,।”

- Advertisement -

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার কালীঘাট থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি হারেননি, ১০০-এর বেশি আসনে কারচুপি করা হয়েছে, তাই তিনি ইস্তফা দেবেন না। যদি সত্যিই ইস্তফা না দেন, সেক্ষেত্রে কী হতে পারে? নতুন সরকার গঠনই বা হবে কীভাবে? এমনিতে রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ ৭ মে পর্যন্ত। তাই নিয়ম অনুযায়ী, ৭ মের পর মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার কথা নয় মমতার। এখন যদি তিনি ইস্তফা দিতে না চান, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করতে পারেন রাজ্যপাল। 

ভারতের সাংবিধানিক ব্যবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাজ্যপালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও বিষয়টা এতটা সরল নয়—সরাসরি “একটি অধ্যাদেশ জারি করে” মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা যায় না। যদি কোনো সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, তাহলে রাজ্যপাল সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীকে West Bengal Legislative Assembly-এ ফ্লোর টেস্টের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দেন। সেখানে ব্যর্থ হলে মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়, আর তা না হলে রাজ্যপাল পরবর্তী সাংবিধানিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।

- Advertisement -

আর Article 356 of the Constitution of India প্রয়োগের বিষয়টিও সরাসরি রাজ্যপালের একতরফা সিদ্ধান্ত নয়; রাজ্যপাল কেন্দ্রকে রিপোর্ট পাঠিয়ে সাংবিধানিক সংকটের কথা জানাতে পারেন, এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত নেন। তাই “সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষমতাচ্যুত” হওয়ার বিষয়টা বাস্তবে একটি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হয়। রাজনৈতিক বক্তব্যে বিষয়টা নাটকীয়ভাবে বলা হলেও আইনগত প্রক্রিয়াটা অনেক বেশি কাঠামোবদ্ধ।

Sadikul Khan
Sadikul Khanhttps://jknews24.in/
আমি সাদিকুল খান। গত তিন বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। শিক্ষা ও রাজনীতির খবর নিয়ে চর্চা ও লেখালেখি করতে বিশেষ আগ্রহী। তবে এই দুই ক্ষেত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয় নিয়েও লেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাঠকের কাছে সহজ ও তথ্যভিত্তিকভাবে খবর তুলে ধরাই আমার অন্যতম লক্ষ্য। কাজের বাইরে অবসর সময়ে রহস্য ও রোমাঞ্চধর্মী গল্পের বই পড়তে ভালোবাসি। মেল- hdmoviekey@gmail.com
Breaking News