২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। তবে মাঠে বল গড়ানোর আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে মানসিক লড়াই। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার জো কোল আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও মহাতারকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
দীর্ঘ ২১ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে চলেছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। থমাস টুখেলের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড দল এবার বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নামবে। বিশ্ব ফুটবলে এই দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বরাবরই আলাদা উত্তেজনা তৈরি করে। এর আগে বিশ্বকাপে ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৮৬, ১৯৯৮ এবং ২০০২ সালে মোট পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। শেষবার ২০০২ সালে জাপানের মাটিতে দেখা হয়েছিল ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার, যেখানে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে জয় পেয়েছিল থ্রি লায়ন্সরা।
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তবে এবার সেই চ্যাম্পিয়ন দলকে থামানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা জো কোল। তাঁর মতে, ইংল্যান্ডের শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে লিওনেল মেসিদের। জনপ্রিয় ‘দ্য রেস্ট ইজ ফুটবল’ পডকাস্টে কোল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “We’ll Put Lionel Messi To Bed।” অর্থাৎ, মাঠে মেসিকে প্রভাব বিস্তার করতে না দেওয়া এবং তাঁর খেলার ছন্দ নষ্ট করাই হবে ইংল্যান্ডের অন্যতম লক্ষ্য।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে পৌঁছানোর পথ ছিল দারুণ নাটকীয়তায় ভরা। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াই ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় লিওনেল স্কালোনির দল। জুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত বাঁকানো শট এবং লাউতারো মার্টিনেজের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। এর আগে রাউন্ড অব ১৬-তেও এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী ছিল ফুটবল বিশ্ব। মিশরের বিরুদ্ধে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে তিনটি গোল করে ৩-২ ব্যবধানে রূপকথার মতো জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিল।
এমনকি রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচেও বিশ্বকাপের নবাগত দল কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে জয় নিশ্চিত করতে না পারায় অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই গড়ায় এবং প্রতিপক্ষের কাছ থেকে প্রবল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় লিওনেল মেসিদের। তবে গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের মতো দলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের পাশাপাশি একমাত্র দল হিসেবে আর্জেন্টিনাও অতিরিক্ত সময়সহ সব ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে। ফলে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামার আগে স্কালোনির দলের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।
মাঠের পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, জো কোলের এই মন্তব্য ম্যাচের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপে আরও একটি শিরোপা জয়ের লড়াই, অন্যদিকে ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বিশ্বকাপ ট্রফির অপেক্ষা শেষ করার স্বপ্ন—দুই দলের লক্ষ্যই এখন এক। তাই আগামী বৃহস্পতিবারের এই হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনাল ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। দুই পরাশক্তির এই লড়াই যে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হতে চলেছে, তা বলাই যায়।
