Milk Vs Curd: দুধ নাকি দই? রোজের ডায়েটে কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর

-

দুধ ও দই—দুটিই পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং সুস্থ শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোনটি রাখা বেশি ভালো, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধে যেমন উচ্চমানের প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিন থাকে, তেমনই দইয়ে রয়েছে উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া, যা হজম ভালো রাখতে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে (Milk Vs Curd)। তাই কোনটি বেশি উপকারী হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা, হজমক্ষমতা এবং পুষ্টির প্রয়োজনের ওপর। দুটিই সুষম পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, দুধকে একটি সুষম খাদ্য বা ‘সুপারফুড’ বলা হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি-গ্রুপ এবং পটাশিয়াম থাকে, যা হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে এবং শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে দুধ পান করলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় এবং পেশির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে যাঁদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা দুধ হজমে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে দুধ খেলে অস্বস্তি, পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা উচিত।

- Advertisement -
আরও পড়ুন: কথায় কথায় নখ চিবান? মনোবিজ্ঞান বলছে আপনার মধ্যে থাকতে পারে এই ৭ স্বভাব

অন্যদিকে দই হলো দুধেরই গাঁজন বা ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় তৈরি একটি পুষ্টিকর খাবার। এই প্রক্রিয়ার ফলে দইয়ে উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে দই খেলে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় থাকে, ফলে হজমজনিত অস্বস্তি কমতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের দুধ হজম করতে সমস্যা হয়, তাঁদের অনেকেই দই তুলনামূলকভাবে সহজে হজম করতে পারেন। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে দই একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধের তুলনায় দই অনেকের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজপাচ্য। গাঁজন প্রক্রিয়ার সময় দুধের কিছু উপাদান ভেঙে যাওয়ায় দই সহজে হজম হতে পারে। তাই যাঁদের দুধ খেলে বদহজম বা পেটে অস্বস্তি হয়, তাঁদের অনেকেই দই খেয়ে তুলনামূলকভাবে স্বস্তি পান। এছাড়া গরমের দিনে দই শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে এবং এতে থাকা পানি ও ইলেকট্রোলাইট শরীরের স্বাভাবিক জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে কারও যদি দুধ বা দইয়ে অ্যালার্জি বা বিশেষ কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে, তাহলে নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

- Advertisement -

পুষ্টিবিদদের মতে, দইয়ে থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস অনেকের শরীরেই তুলনামূলকভাবে সহজে শোষিত হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে চিনি ছাড়া দই খেলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যকারিতাকেও সমর্থন করতে পারে। পাশাপাশি দইয়ে থাকা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক। ত্বক ও চুলের সুস্থতা বজায় রাখতেও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে দই উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি মেশানো দইয়ের বদলে সাধারণ বা টক দই খাওয়াই স্বাস্থ্যকর বলে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন।

- Advertisement -

সব দিক বিবেচনা করলে বলা যায়, দুধ ও দই—দুটিই পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর খাবার। তবে যাঁদের হজমের সমস্যা থাকে বা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চান, তাঁদের জন্য দই অনেক সময় তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী হতে পারে। কারণ এতে থাকা প্রোবায়োটিক উপকারী ব্যাকটেরিয়া হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, দুধও ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাই কোনটি আপনার জন্য বেশি উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করে বয়স, শারীরিক অবস্থা, হজমক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত পুষ্টির চাহিদার ওপর। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে দুধ, দই বা উভয়ই প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।

🔔 সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে যুক্ত হন

ব্রেকিং নিউজ, চাকরির খবর, টেক আপডেট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের WhatsAppTelegram চ্যানেলে এখনই যুক্ত হন।

Breaking News