পশ্চিমবঙ্গ বাজেট ২০২৬-এ বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই যুবশক্তি প্রকল্পে মাসিক ৩০০০ টাকার ভাতা কবে চালু হবে, তা নিয়ে যুব সমাজের মধ্যে জোর আলোচনা ও অপেক্ষা চলছিল। অবশেষে রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল নতুন ‘ভরসা’ প্রকল্পের। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য বেকার যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা এবং ২০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে কারা ৩০০০ টাকা পাবেন, কারা ২০০০ টাকা পাবেন, আবেদন করতে কী কী যোগ্যতা লাগবে এবং কবে থেকে এই ভাতা চালু হবে—সেই সব তথ্য বাজেট পেশের সময় তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বিস্তারিত জানতে প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
‘ভরসা’ প্রকল্পে বেকারদের মিলবে মাসে ৩০০০ টাকা
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেকারদের মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো। পরে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে ঘোষণা করেছিল, ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের আওতায় সেই ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসিক ৩০০০ টাকা করা হবে। তবে ভোটের পর দীর্ঘ সময় এই বিষয়ে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ সামনে আসেনি। ফলে যুব সমাজের একাংশের মধ্যে অপেক্ষা ও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন দেখা গেল ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে। সেখানে নতুন ‘ভরসা’ প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে।
‘ভরসা’ প্রকল্পে মাসে কত টাকা পাবেন?
রাজ্য বাজেট ২০২৬-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে:
- গ্র্যাজুয়েট বা স্নাতক পাস বেকার: প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা।
- অন্যান্য যোগ্য আবেদনকারী: প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা।
- পরীক্ষার জন্য এককালীন সাহায্য: সরকারি ও সরকারপোষিত কলেজের যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে এককালীন ৩০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
‘ভরসা’ প্রকল্পে আবেদনের জন্য কী কী নথি জরুরি?
ভরসা প্রকল্পে আবেদন করতে গেলে কিছু প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হতে পারে। আবেদনকারীদের আগে থেকেই এই ডকুমেন্টগুলি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নথির তালিকায় রয়েছে— আধার কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র হিসেবে), ভোটার আইডি কার্ড, বয়সের প্রমাণ হিসেবে জন্ম শংসাপত্র অথবা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড। এছাড়াও শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র ও মার্কশিট জমা দিতে হতে পারে। আবেদনকারীর নামে সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণও দিতে হবে, কারণ সেই অ্যাকাউন্টেই সরাসরি ভাতার টাকা পাঠানো হবে। পাশাপাশি পারিবারিক আয়ের শংসাপত্রও আবেদনের সময় প্রয়োজন হতে পারে।
কিভাবে আবেদন করবেন ‘ভরসা’ প্রকল্পে?
ভরসা প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। ইতিমধ্যেই যুবশক্তি অফিসিয়াল পোর্টাল চালু হয়েছে , কিন্তু তাতে আবেদন করা যাচ্ছে না। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই প্রকল্পে অনলাইন এবং অফলাইন দুভাবেই আবেদন করা যেতে পারে। বিস্তারিত এবং সঠিক আপডেট অফিসিয়াল ঘোষণা আসা মাত্রই জানা যাবে।
