বাংলার বাড়ি প্রকল্প নিয়ে এবার বড় পদক্ষেপের পথে নবান্ন। অভিযোগ উঠেছে, পূর্ববর্তী সময়ে আবাস প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন এমন বহু মানুষ বেআইনিভাবে সরকারি সহায়তা নিয়েছেন, ফলে প্রকৃত উপভোক্তারা বঞ্চিত হয়েছেন। সেই কারণেই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ হাজার উপভোক্তার কাছ থেকে অর্থ ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। সরকারের দাবি, ভবিষ্যতে যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র যোগ্য মানুষের কাছেই পৌঁছায় এবং কোনও ধরনের অনিয়ম বা ভুয়ো সুবিধাভোগী তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ মুখ্যসচিবের
‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বাড়ল। ক্ষমতা পরিবর্তনের পর রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিবকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ ওঠা অযোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনের দাবি, বহু ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম ভেঙে এমন ব্যক্তিরাও আবাস প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন যাঁদের আগে থেকেই পাকা বাড়ি ছিল, ফলে প্রকৃত প্রাপকেরা বঞ্চিত হয়েছেন এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের উপভোক্তাদের তালিকা নতুন করে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিহ্নিত হয়েছে ১০ হাজার উপভোক্তা
বাংলার বাড়ি প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ১২ লক্ষ উপভোক্তা এই প্রকল্পে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। আর দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৬ লক্ষ মানুষকে প্রথম ধাপের ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রকল্পে বেআইনিভাবে সুবিধা নিয়েছেন অনেকে এবার তাঁদের সেই অর্থ ফেরত দিতে হবে সরকারকে। এমনই নির্দেশ মিলেছে নবান্নের তরফে। যাচাইয়ের তদন্তে নেমে, প্রায় ১০ হাজার উপভোক্তা ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছেন। তাঁদের কেউ সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে বাড়ি নিয়েছেন, কোথাও আবার একজনের নামে একাধিক বাড়ি হয়েছে।
দপ্তরের এক আধিকারিকের দাবি, প্রথম পর্যায়ের তুলনায় দ্বিতীয় পর্যায়ে বেআইনিভাবে সুবিধা নেওয়ার ঘটনা বেশি ধরা পড়েছে। যাঁদের অযোগ্য বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে প্রকল্পের টাকা দ্রুত ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অর্থ নির্দিষ্ট ট্রেজারি হেড অফ অ্যাকাউন্টে টি.আর. ফর্ম–৭-এর মাধ্যমে জমা করতে হবে। শুধু তাই নয়, অর্থ ফেরত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্লক প্রশাসনকে রিকভারি মডিউলে সুবিধাভোগীর আইডির পাশে ফেরত দেওয়া টাকার পরিমাণ নথিভুক্ত করতে হবে এবং টি.আর. ফর্ম–৭-এর কপিও আপলোড করতে হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়ার সরকারি রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে।
