স্বামী ঋষি কপূর-এর মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় কঠিন মানসিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল নীতু কপূর-কে। ধীরে ধীরে তিনি আবার কাজের জগতে ফিরলেও, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি নাকি ভেঙে পড়ে মদের আশ্রয় নিয়েছিলেন—এমন কথাও শোনা গিয়েছিল বিভিন্ন মহলে। তবে এবার সেই বিষয়েই মুখ খুলেছেন নীতু কপূর।
ঋষি কপূরের মৃত্যুর পর কঠিন সময়ের মুখোমুখি নীতু কপূর
এক সাক্ষাৎকারে নীতু কপূর খোলাখুলিভাবেই জানিয়েছেন, স্বামী ঋষি কপূর-এর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন। সেই কঠিন সময় সামলাতে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে আবার কাজেও ফেরেন। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি তখন মদ্যপান শুরু করেছিলাম। আগে কখনও সে ভাবে করিনি। কিন্তু ওই সময়টা খুব কঠিন ছিল।” নীতুর এই স্বীকারোক্তি তাঁর জীবনের কঠিন অধ্যায় এবং সেখান থেকে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ানোর লড়াইয়ের কথাই সামনে এনেছে।
কেন বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে শুরু করেছিলেন নীতু?
নীতু কপূর জানিয়েছেন, স্বামী ঋষি কপূর-এর মৃত্যুর পর একাকিত্ব কাটাতেই তিনি বাইরে বেরোতে শুরু করেছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, আড্ডা দেওয়া এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে সেই কঠিন সময় থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন তিনি। অভিনেত্রী আরও জানান, এই কারণে তাঁকে অনেক কটাক্ষও শুনতে হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর এত দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা উচিত নয়। তবে নীতুর কথায়, “মানুষ বোঝে না যে, প্রত্যেকে নিজের মতো করে শোক সামলায়।” তাঁর এই মন্তব্যে ব্যক্তিগত শোক ও মানসিক লড়াই নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির কথাও উঠে এসেছে।
তিনি জানান, ছেলে রণবীর কপূর এবং মেয়ে ঋদ্ধিমাও তাঁকে শক্ত থাকতে সাহায্য করেছেন। পরিবারের সমর্থনেই তিনি ধীরে ধীরে জীবনে এগিয়ে যেতে পেরেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পরে প্রয়াত হন ঋষি। তাঁর মৃত্যুর পরে দীর্ঘদিন মানসিক ভাবে কঠিন সময়ের মধ্যে ছিলেন নীতু।
