সাদিকুল খান, কলকাতাঃ ঢাকে কাঠি পড়তে আর বেশি দেরি নেই। আর কয়েকদিন পরই আসছে বিশ্বকর্মা পুজো। তার আগের দিন পশ্চিমবঙ্গের শহরতলি ও গ্রামাঞ্চলে পালিত হয় রান্না পুজো। আগের রাতেই নানা রকম আমিষ-নিরামিষ পদ রান্না করে রাখা হয় এবং পরদিন সেই খাবার মা মনসাকে নিবেদন করা হয়। রান্না পুজোর ভোগের থালায় অনেক পদের মধ্যে ইলিশ মাছের গুরুত্বই আলাদা। রূপোলি এই মাছ দিয়ে তৈরি হয় নানা রকম পদ, তাই পুজোর আগে থেকেই ইলিশের অপেক্ষায় থাকেন বাঙালিরা। তবে এবছর সেই অপেক্ষায় কিছুটা হতাশার খবর। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে ইলিশের জোগান থাকলেও তার বেশিরভাগই মায়ানমার ও গুজরাট থেকে আসছে। এমনকি সেই ইলিশের একটি বড় অংশ বাংলাদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু যে পদ্মা বা মেঘনার ইলিশের স্বাদের জন্য বাঙালি আলাদা করে অপেক্ষা করেন, সেই ইলিশ রান্না পুজোর আগে কলকাতা-সহ রাজ্যের বাজারে আসার সম্ভাবনা নেই বলেই জানা যাচ্ছে।
কেন পশ্চিমবঙ্গে আসছে না বাংলাদেশের ইলিশ?
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে গত ৫১ দিনে প্রায় এক ডজন নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে ইলিশ এখনও গভীর সমুদ্রের নোনা জলেই রয়েছে। এর মধ্যে একাধিকবার মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। ফলে পদ্মা-মেঘনার মিষ্টি জল কিংবা মোহনায় ইলিশের তেমন আগমন ঘটেনি। স্বাভাবিকভাবেই ইলিশের উৎপাদনও এখন প্রায় নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের মৎস্যজীবীরা যতটুকু ইলিশ ধরতে পেরেছেন, তা দেশের বিপুল চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। আর সেই কারণেই বাংলাদেশে পদ্মা-মেঘনার ইলিশের দাম এখন আকাশছোঁয়া।
আরও পড়ুনঃ বিয়ের পর আধার কার্ডে পদবি বদলাবেন? জানুন প্রয়োজনীয় নথি ও নিয়ম
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ৪,৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১,২৫০ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে আনা সম্ভব হয়। এবছরও ইলিশ আমদানির আশায় গত ১৭ আগস্ট ৮টি ভারতীয় আমদানিকারক সংস্থার প্রতিনিধিরা ঢাকায় গিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী, বাণিজ্য সচিব এবং ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে রপ্তানি করার মতো পর্যাপ্ত ইলিশ নেই। তবে পরবর্তীতে পদ্মায় ইলিশের জোগান বাড়লে দুর্গাপুজোর আগেই ভারতে ইলিশ পাঠানোর চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
গত বছর বিশ্বকর্মা পুজোর রাতে রান্না পুজোর পরের দিন মাত্র ১২৫ মেট্রিক টন বাংলাদেশি ইলিশ ভারতে এসেছিল। তার পরেও গোটা মরশুমে সেই ইলিশের দাম ছিল আকাশছোঁয়া, ফলে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল রূপোলি শস্য। তবে ২০২৬ সালে ছবিটা একেবারেই উল্টো। এবছর বাংলাদেশে ইলিশের জোগান কম থাকায় ভারতের গুজরাট থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হচ্ছে।
