ফের জ্বালানির দামে বাড়ল চাপ। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব এবার পড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের দামে। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১.৬৩ টাকা এবং প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১.৫৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে নিত্যদিন যাতায়াত থেকে শুরু করে পরিবহণ খরচ—সব ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্তের ব্যয় আরও বাড়তে পারে। নতুন দামের জেরে বাজারে পণ্য পরিবহণের খরচও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এবার জেনে নেওয়া যাক, এই মূল্যবৃদ্ধির পর পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন দাম কত হল।
ফের দাম বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের
জানিয়ে রাখি, এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ভারতের নয়, পাকিস্তান সরকারের। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতার প্রভাবে দেশটি আবারও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১.৬৩ পাকিস্তানি টাকা বেড়ে ৩৩৫.৮১ পাকিস্তানি টাকা হয়েছে। একইভাবে, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১.৫৫ পাকিস্তানি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩৮.৩৮ পাকিস্তানি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার জ্বালানির উপর বিদ্যমান কর ও শুল্কও বহাল রেখেছে। ফলে প্রতি লিটার পেট্রোলে ১১০ পাকিস্তানি টাকা এবং প্রতি লিটার ডিজেলে ৯৬ পাকিস্তানি টাকা কর ও শুল্ক আদায় অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ায় পাকিস্তানে এক সময় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিল। সেই সময় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম বেড়ে ৫২০.৩৫ পাকিস্তানি টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। অথচ চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে ডিজেলের দাম ছিল ২৮১ পাকিস্তানি টাকা প্রতি লিটার। একইভাবে, পেট্রোলের দাম ২৬৬ পাকিস্তানি টাকা থেকে বেড়ে ৪৫৮.৪১ পাকিস্তানি টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। পরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমে এবং পাকিস্তানেও কিছুটা স্বস্তি মেলে।
এমনকি এ বিষয়ে সম্প্রতি দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক জানিয়েছেন, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার উপর ভিত্তি করেই এখন থেকে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হবে। যদিও সরকার মার্চ মাসের শুরু থেকে সাপ্তাহিক ভিত্তিতেই তেলের দাম পুনঃনির্ধারণ করেছিল। কিন্তু আজকের এই দাম বৃদ্ধি মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে যে সরাসরি প্রভাবিত করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আসলে হয়তো পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম আবারও কমতে পারে।
