Homeলাইফস্টাইলস্বাস্থ্যঋতুস্রাবের ব্যথায় নাজেহাল? ওষুধ ছাড়াই মিলবে আরাম, মানুন এই টিপস

ঋতুস্রাবের ব্যথায় নাজেহাল? ওষুধ ছাড়াই মিলবে আরাম, মানুন এই টিপস

-

ঋতুস্রাবের সময় অনেক মহিলাকেই তীব্র পেটব্যথা, শরীরের দুর্বলতা, মুড সুইং কিংবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে Dysmenorrhea বা পিরিয়ড ক্র্যাম্প অনেক সময় এতটাই কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে যে স্বাভাবিক কাজকর্ম করাও কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ কেউ এই অস্বস্তি কমাতে নিয়মিত ওষুধ খান, তবে অতিরিক্ত পেইনকিলার শরীরের জন্য সবসময় ভালো নয়। তাই অনেকেই এখন ভরসা রাখছেন সহজ কিছু ঘরোয়া উপায়ে, যা স্বাভাবিকভাবেই ব্যথা ও অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। আজকের প্রতিবেদনে রইল এমনই কয়েকটি সহজ টোটকার কথা।

ঋতুস্রাবের সময় পেটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায়

ঋতুস্রাবের সময় শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে অনেক সময় দুর্বলতা, ক্লান্তি ও অস্বস্তি বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসকেরা এই সময় আয়রন ও পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে শরীরে রক্তের ঘাটতি না হয়। তবে অনেকেই না জেনেই এমন কিছু খাবার খেয়ে ফেলেন, যা Dysmenorrhea-এর ব্যথা ও অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই শুধু খাবারের দিকে নজর রাখলেই হবে না, পাশাপাশি কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় মেনে চললেও পিরিয়ডের কষ্ট অনেকটাই কমানো সম্ভব। আজকের প্রতিবেদনে রইল সেই সহজ ও কার্যকর কিছু টিপস।

- Advertisement -

তেল মালিশ

ঋতুস্রাবের সময় তলপেটে ব্যথা বা টান ধরলে হালকা গরম তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে অনেকটাই আরাম মিলতে পারে। একটি ছোট বাটিতে সামান্য তেল গরম করে হাতের তালুতে নিয়ে ধীরে ধীরে তলপেটে মালিশ করুন। এতে পেশির টান কিছুটা কমে এবং শরীরও রিল্যাক্স অনুভব করে। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের এসেনশিয়াল অয়েলও পাওয়া যায়, যা Dysmenorrhea-এর অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। শুধু তলপেট নয়, কোমর, থাই ও পায়েও হালকা ম্যাসাজ করলে ব্যথা ও ক্লান্তি কিছুটা কমতে পারে।

নিয়মিত করতে হবে ব্যায়াম

ব্যায়াম হল এমন এক প্রসেস যা করলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় পিরিয়ড শুরু হলে অনেকেই ব্যায়াম করা ছেড়ে দেন সারাক্ষণ বিশ্রাম নেন। কিন্তু কখনোই সেটি করা যাবে না। আসলে অনেকের বিশ্বাস এই সময়ে শরীরচর্চা করলে আরও বেশি রক্তপাত হবে। কিন্তু না , তেমন কিছুই না উল্টে ব্যায়াম করলে এই সময় ব্যথা কম থাকে। কারণ এই সময়ে শরীর যত বেশি সচল থাকবে এবং ব্যথা-যন্ত্রণা কম হবে।

কোল্ড ড্রিঙ্কস এবং দুগ্ধজাতীয় খাবার বাদ

ঋতুস্রাবের সময় খাদ্যাভ্যাসের দিকেও বিশেষ নজর রাখা জরুরি। অনেকের মতে, এই সময়ে অতিরিক্ত কোল্ড ড্রিঙ্ক বা ঠান্ডা পানীয় খেলে পেটের অস্বস্তি ও ব্যথা আরও বাড়তে পারে। যদিও “রক্ত পুরোপুরি বেরোতে পারে না” বা ভবিষ্যতে বড় রোগ হওয়ার মতো দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবুও ঠান্ডা ও বেশি চিনিযুক্ত পানীয় অনেকের শরীরে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত দুধ, দই বা দুগ্ধজাত খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও তৈরি করতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত ক্যাফিনযুক্ত পানীয় যেমন বেশি কফি বা এনার্জি ড্রিঙ্ক খেলে শরীরে জলশূন্যতা বাড়তে পারে এবং Dysmenorrhea-এর অস্বস্তিও কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। তাই এই সময় পর্যাপ্ত জল পান করা এবং হালকা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।

গরম সেঁক

ঋতুস্রাবের সময়ে পেট ব্যাথা হলে হিট থেরাপি অর্থাৎ গরম সেঁক মাস্ট। কারণ গরম সেঁক দিয়ে জরায়ুর পেশিতে রক্ত সঞ্চালন সচল করে এবং পেশির সংকোচন কমিয়ে যন্ত্রণা মুক্ত করে। এই সময় হট ওয়াটার ব্যাগ বা হিটিং প্যাড ১৫-২০ মিনিট তলপেটে চেপে ধরুন। দেখবেন আরাম পাওয়া যাবে।

- Advertisement -
- Advertisement -
Breaking News
- Advertisement -
Related Stories
- Advertisement -