Homeলাইফস্টাইলস্বাস্থ্যপাইলস হলে কী করবেন? পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির সহজ উপায়!

পাইলস হলে কী করবেন? পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির সহজ উপায়!

-

বর্তমানে হাড়ীশ বা পাইলস খুবই পরিচিত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোনো বয়সের মানুষের এই রোগ হতে পারে। অনেকেই প্রথম দিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না, কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না করালে সমস্যাটি ধীরে ধীরে জটিল আকার নিতে পারে। তবে ভালো খবর হলো, শুরুতেই সঠিক যত্ন ও চিকিৎসা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই অপারেশন ছাড়াই পাইলস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে হলে আগে জানতে হবে পাইলস আসলে কী, এর সাধারণ লক্ষণগুলো কী, কেন এই সমস্যা হয় এবং কীভাবে এর প্রতিকার করা যায়। এই ব্লগে আমরা সহজ ভাষায় সেই সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

পাইলস (অর্শরোগ) কী?

হাড়ীশ বা পাইলস এমন একটি সমস্যা, যেখানে মলদ্বারের ভেতরের রক্তনালীগুলো ফুলে গিয়ে ছোট পিণ্ডের মতো আকার ধারণ করে। অনেক সময় এই ফুলে যাওয়া অংশ বাইরে বেরিয়েও আসতে পারে। সাধারণ অবস্থায় পাইলসের কারণে তীব্র ব্যথা না হলেও, রোগটি জটিল হয়ে গেলে ব্যথা, অস্বস্তি বা রক্তপাতের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গ্রামবাংলায় এই রোগটি অর্শরোগ বা হাড়ীশ নামেও পরিচিত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে Hemorrhoids বলা হয়।

- Advertisement -

পাইলস হলে কী করবেন?

পাইলস সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে—ভিতরের পাইলস এবং বাহিরের পাইলস। ভিতরের পাইলসে মলদ্বারের ভেতরের রক্তনালী ফুলে যায়। এই ফুলে যাওয়া অংশ কতটা বাইরে বেরিয়ে আসে, তার উপর ভিত্তি করে একে ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ ডিগ্রিতে ভাগ করা হয়। অন্যদিকে বাহিরের পাইলস মলদ্বারের বাইরের চামড়ার অংশে হয়। সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে গেলে জায়গাটি ফুলে ওঠে এবং অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

কী খেলে পাইলস ভালো হয়?

Hemorrhoids বা পাইলসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছু ঘরোয়া উপায় বেশ উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে রোগটি যদি প্রাথমিক অবস্থায় থাকে। বেশি করে শাক-সবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং মলত্যাগ সহজ হয়, ফলে পাইলসের চাপও কম পড়ে। নিয়মিত ইসবগুলের ভুসি খাওয়াও অনেক ক্ষেত্রে উপকার দেয়। এছাড়া পাকা বেলের শরবত হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে। মলদ্বারের অস্বস্তি ও ফোলা কমাতে উষ্ণ গরম পানিতে সেঁক নেওয়া বেশ কার্যকর হতে পারে। অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পায়ুপথে পিচ্ছিল বা লুব্রিকেন্ট জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করলেও জ্বালা ও ব্যথা কিছুটা কমে। তবে সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে বা অতিরিক্ত রক্তপাত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়

Hemorrhoids বা পাইলস থেকে দীর্ঘমেয়াদে মুক্ত থাকতে হলে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, মটরশুটি ও অন্যান্য ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খেলে পায়খানা নরম থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে, যা পাইলস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে পর্যাপ্ত পানি খেলে হজম ভালো থাকে এবং মলত্যাগ সহজ হয়। তবে অতিরিক্ত চা, কফি বা কোমল পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো। নিয়মিত পরিমাণমতো ইসবগুলের ভুসি খেলে অনেকের উপকার হয়, কারণ এটি পায়খানা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত খেলে গ্যাস বা পেটব্যথা হতে পারে। অনেকেই মনে করেন খাঁটি ঘি খেলে পাইলস ভালো হয়ে যায়, কিন্তু এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এছাড়া টয়লেটে অযথা বেশি সময় বসে থাকা ঠিক নয়। প্রয়োজন শেষ হলেই উঠে আসা উচিত, কারণ দীর্ঘক্ষণ চাপ দিয়ে বসে থাকলে পাইলসের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

পাইলস হলে কি কি সমস্যা হয়?

পাইলস হলে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেগুলো শুরুতেই চিনে ফেলতে পারলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়। সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো মলদ্বার থেকে রক্ত পড়া, বিশেষ করে পায়খানার সময় বা পরে। অনেকের মলদ্বারে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া অনুভব হতে পারে। এছাড়া মলদ্বারের আশপাশে ছোট যন্ত্রণাদায়ক পিণ্ড বা ফোলা অংশ দেখা দিতে পারে, যা বসা বা হাঁটার সময় অস্বস্তি তৈরি করে। পায়খানা করার সময় এবং তার পরেও অনেকের অস্বস্তি বা চাপ লাগার অনুভূতি থাকতে পারে। এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

যেসব কারণে পাইলস হয়

পাইলস হওয়ার পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে, যেগুলোর অনেকটাই আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা পাইলসের অন্যতম প্রধান কারণ, কারণ এতে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিতে হয়। আবার বারবার ডায়রিয়াও মলদ্বারের রক্তনালীর উপর প্রভাব ফেলে। অনেকেই টয়লেটে দীর্ঘ সময় বসে থাকেন বা পায়খানার বেগ চেপে রাখেন, যা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া পুষ্টিকর ও আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, শরীরের অতিরিক্ত ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবও পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায়। পায়খানার সময় অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ করাও ক্ষতিকর। কিছু ক্ষেত্রে পায়ুপথে সহবাসের কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পাইলসের সমস্যায় কি কি খাবার খাওয়া নিষেধ?

পাইলসের সমস্যা থাকলে কিছু খাবার এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস বা মলত্যাগে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত লাল মাংস, বেশি দুগ্ধজাত খাবার, তেলে ভাজা ও অতিরিক্ত মশলাদার খাবার অনেকের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। একইভাবে অতিরিক্ত কফি, চা, কোমল পানীয় ও অ্যালকোহল শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে, ফলে মল শক্ত হয়ে যায়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বেশি বাদাম খেলেও হজমের সমস্যা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই পাইলস থাকলে হালকা, আঁশযুক্ত ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সবচেয়ে উপকারী।

শেষ কথা

ডাক্তার তারিক আখতার খান পাইলস, পায়ুপথ, মলাশয়, বৃহদান্ত্র ও ক্ষুদ্রান্তের সকল রোগের চিকিৎসা ও অপারেশনে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ কলোরেকটাল সার্জন। তিনি যুক্তরাজ্যের রয়েল কলেজ থেকে FRCS করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলোরেকটাল সার্জারি বিষয়ের উপর এমএস ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তিনি ইতোপূর্বে শহীদ সোহরাওয়ার্দি মেডিকেল কলেজে ও বর্তমানে মুগদা মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করছেন। পাইলসের সমস্যায় ১৫ বছরের অধিক অভিজ্ঞ এ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং নিজেকে সুস্থ রাখুন।

- Advertisement -
- Advertisement -
Breaking News
- Advertisement -
Related Stories
- Advertisement -