তামান্না খান, কলকাতাঃ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার নানা ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছে, যার মধ্যে কৃষকদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি (PM-KISAN) যোজনা। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষক পরিবারকে বছরে মোট ৬,০০০ টাকা দেওয়া হয়, যা তিনটি সমান কিস্তিতে ২,০০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। কিন্তু এবার কি ২,০০০ টাকার পরিবর্তে ৪,০০০ টাকা পাওয়া যাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক আসল সত্য কী।
কত টাকা পাওয়া যায়?
PM Kisan প্রকল্পের অধীনে যোগ্য কৃষকরা বছরে মোট ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পান। এই টাকা বছরে তিনটি কিস্তিতে ২,০০০ টাকা করে সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়, ফলে কৃষকদের আলাদা করে কোথাও গিয়ে টাকা সংগ্রহ করতে হয় না এবং নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি সহায়তার অর্থ সরাসরি তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়।
কৃষকরা কি ২,০০০ টাকার পরিবর্তে ৪,০০০ টাকা পাবেন?
আসলে PM Kisan প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কিস্তিতে যোগ্য সুবিধাভোগীদের ২,০০০ টাকা করে দেওয়া হয়। তাই ২৪তম কিস্তিতেও কৃষকরা ২,০০০ টাকা করেই পাবেন। তবে কোনও কৃষকের আগের কোনও কিস্তি যদি নথিপত্রের সমস্যা, e-KYC বা অন্য কোনও কারণে আটকে থাকে এবং পরে সেই সমস্যা সমাধান হয়ে যায়, তাহলে সরকার সেই বকেয়া কিস্তির টাকাও পরবর্তীতে পাঠাতে পারে। অর্থাৎ, কারও একাধিক কিস্তির টাকা বকেয়া থাকলে একসঙ্গে টাকা পাওয়ার কারণে মোট পরিমাণ ২,০০০ টাকার বেশি হতে পারে, কিন্তু ২৪তম কিস্তির নির্ধারিত পরিমাণ ২,০০০ টাকাই।
তাই যাঁদের আগের কোনও কিস্তির ২,০০০ টাকা আটকে ছিল এবং সেই সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, তাঁরাই ২৪তম কিস্তির ২,০০০ টাকার সঙ্গে আগের বকেয়া ২,০০০ টাকা মিলিয়ে মোট ৪,০০০ টাকা পেতে পারেন। তবে যাঁদের কোনও বকেয়া কিস্তি নেই, তাঁরা শুধুমাত্র ২৪তম কিস্তির ২,০০০ টাকাই পাবেন। ২৪তম কিস্তি অক্টোবর মাসে প্রকাশ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে এখনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি। তাই কিস্তি কবে আসবে, সেই বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের জন্য সরকারি ঘোষণার দিকেই নজর রাখা ভালো।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য কৃষকরা বছরে মোট ৬,০০০ টাকা তিনটি কিস্তিতে পান। ২৪তম কিস্তিতে সাধারণভাবে ২,০০০ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও, আগের কোনও কিস্তির টাকা যদি আটকে থাকে এবং সেই সমস্যা পরে সমাধান হয়ে যায়, তাহলে বকেয়া টাকাও নতুন কিস্তির সঙ্গে একসঙ্গে পাওয়া যেতে পারে। তাই কিস্তির টাকা পেতে কোনও ধরনের সমস্যা এড়াতে কৃষকদের নিয়মিত নিজেদের PM Kisan স্ট্যাটাস, e-KYC, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং জমির নথি ঠিকঠাক আছে কি না, তা যাচাই করে রাখা উচিত।
