আজকের দিনে অনেক তরুণ-তরুণী চাকরির পাশাপাশি নিজের একটি ব্যবসা শুরু করার স্বপ্ন দেখেন। তবে পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব বা বিনিয়োগের টাকা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে কম খরচে নির্ভরযোগ্য ব্যবসার সুযোগ খুঁজছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য ইন্ডিয়া পোস্ট নিয়ে এসেছে আকর্ষণীয় একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল। মাত্র ৫,০০০ টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা দিয়েই পোস্ট অফিসের ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ মিলতে পারে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ডাক ও আর্থিক পরিষেবা দিয়ে কমিশনের ভিত্তিতে প্রতি মাসে ভালো আয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সাধারণত কোনও বড় সংস্থার ফ্র্যাঞ্চাইজি নিতে লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। তবে দেশের যুবসমাজকে স্বনির্ভর করে তুলতে তুলনামূলক কম খরচে ফ্র্যাঞ্চাইজির সুযোগ দিচ্ছে ইন্ডিয়া পোস্ট। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এই ব্যবসায় প্রতারণার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম এবং পরিষেবার উপর ভিত্তি করে কমিশন আয়ের সুযোগও থাকে। তাই কম বিনিয়োগে নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি একটি ব্যবসা শুরু করতে চাইলে পোস্ট অফিসের ফ্র্যাঞ্চাইজি স্কিম অনেকের জন্যই একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
কীভাবে হবে আয়?
পোস্ট অফিসের ফ্র্যাঞ্চাইজি নেওয়ার পর আপনার আয় নির্ভর করবে আপনি কতটি পরিষেবা দিচ্ছেন এবং প্রতিদিন কতজন গ্রাহক আসছেন তার উপর। ইন্ডিয়া পোস্ট বিভিন্ন পরিষেবার জন্য নির্দিষ্ট হারে কমিশন দেয়। যেমন, রেজিস্টার্ড পোস্ট বুকিংয়ে প্রতি আর্টিকেলে ৩ টাকা, স্পিড পোস্ট বুকিংয়ে ৫ টাকা কমিশন পাওয়া যায়। ১০০ টাকার বেশি মূল্যের মানি অর্ডার-এর ক্ষেত্রে মোট অর্থের ৩.৫০% পর্যন্ত কমিশন দেওয়া হয়। এছাড়া ডাকটিকিট ও পোস্টাল স্টেশনারি বিক্রিতে মোট বিক্রির ৫% এবং রেভিনিউ স্ট্যাম্প বিক্রিতে ৪% পর্যন্ত কমিশন পাওয়া যায়। ফলে গ্রাহকের সংখ্যা ও পরিষেবার পরিমাণ বাড়লে মাসিক আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রতিদিন যদি ভাল সংখ্যায় স্পিড পোস্ট, রেজিস্ট্রি ও পার্সেল বুকিং করা যায়, তাহলে কোনও বড় ঝুঁকি ছাড়াই প্রতি মাসে ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা বা তারও বেশি আয় করা সম্ভব।
কারা নিতে পারবেন পোস্ট অফিসের ফ্র্যাঞ্চাইজি?
ইন্ডিয়া পোস্টের ফ্র্যাঞ্চাইজি পাওয়ার শর্তগুলি বেশ সহজ এবং সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। তাই শহর হোক বা গ্রাম—উভয় এলাকার যোগ্য আবেদনকারীরাই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করে এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেই পোস্ট অফিসের ফ্র্যাঞ্চাইজি নেওয়ার সুযোগ মিলতে পারে।
পোস্ট অফিসের ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য আবেদন করতে হলে কিছু সাধারণ যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হবে এবং স্বীকৃত যে কোনও বিদ্যালয় থেকে অন্তত অষ্টম শ্রেণি পাশ থাকতে হবে। এছাড়া পরিষেবা পরিচালনার জন্য একটি ছোট দোকান বা নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক জায়গা থাকা প্রয়োজন। কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের প্রাথমিক জ্ঞান থাকলে দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা আরও সহজ হয় এবং গ্রাহকদের দ্রুত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়।
কীভাবে আবেদন করবেন?
পোস্ট অফিসের ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। প্রথমে ইন্ডিয়া পোস্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র (Application Form) ডাউনলোড করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ করে নিকটবর্তী হেড পোস্ট অফিসে জমা দিতে হবে। আবেদন যাচাই ও অনুমোদনের পর ডাক বিভাগ আবেদনকারীর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করবে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই আপনি ইন্ডিয়া পোস্টের অনুমোদিত ফ্র্যাঞ্চাইজি পার্টনার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষেবা প্রদান এবং নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।
