জানারুল খান, কলকাতাঃ ডাকঘরের মাধ্যমে পরিচালিত একাধিক সরকারি সঞ্চয় প্রকল্পের মধ্যে পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট (Post Office RD Scheme) স্কিম বেশ জনপ্রিয়। নিরাপদে নিয়মিত টাকা জমিয়ে ভবিষ্যতের জন্য বড় অঙ্কের ফান্ড তৈরি করার সুযোগ থাকায় অনেকেই এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখান। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমিয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে সুদ-সহ ভালো রিটার্ন পাওয়া যায়। হিসেব অনুযায়ী, প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে সঞ্চয় করলে দীর্ঘমেয়াদে বড় অঙ্কের টাকা জমতে পারে এবং সুদ থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হতে পারে। তবে ২৫ লাখ টাকা ফান্ড ও ৭ লাখ টাকার বেশি সুদের হিসেবটি নির্ভর করবে বিনিয়োগের মেয়াদ এবং সেই সময়ের প্রযোজ্য সুদের হারের উপর। তাই বিনিয়োগের আগে বর্তমান সুদের হার ও সরকারি নিয়ম দেখে নেওয়া জরুরি।
বিনিয়োগে ঝুঁকি ‘শূন্য’ (Post Office RD Scheme)
বর্তমান সময়ে আয়ের একটি অংশ সঞ্চয় করে এমন জায়গায় বিনিয়োগ করতে চান অনেকেই, যেখানে টাকা নিরাপদ থাকার পাশাপাশি ভালো রিটার্নও পাওয়া যায়। এই কারণেই ডাকঘরের বিভিন্ন সরকারি সঞ্চয় প্রকল্প সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এসব প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম ও সুরক্ষা থাকায় ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে সুদ-সহ রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ থাকে।
রেকারিং ডিপোজিটে এত সুদ
আগেই বলা হয়েছে, পোস্ট অফিসের বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে নিরাপত্তার পাশাপাশি আকর্ষণীয় সুদ পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট (RD) স্কিমে বর্তমানে ৬.৭ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের ফান্ড তৈরি করা যায় বলে অনেকেই এই স্কিমকে পোস্ট অফিসের ‘গুল্লক’ বলেও থাকেন।
আরও পড়ুনঃ আজকের সোনার দাম: ১ গ্রাম সোনা কত টাকায়? জানুন ২২ ও ২৪ ক্যারেটের রেট
মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়
ডাকঘরের জনপ্রিয় ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলির মধ্যে পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট বা RD স্কিম অন্যতম। কাছের যে কোনও পোস্ট অফিসে গিয়ে সহজেই এই স্কিমে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে এবং এরপর নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত টাকা জমা করা যায়। বিনিয়োগকারীরা চাইলে নিজের নামে সিঙ্গল অ্যাকাউন্ট অথবা একাধিক ব্যক্তির নামে জয়েন্ট অ্যাকাউন্টও খুলতে পারেন।
পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিট (RD) স্কিমে সাধারণত বিনিয়োগের মেয়াদ ৫ বছর। তবে কেউ চাইলে ম্যাচিউরিটি পূর্ণ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই অ্যাকাউন্টের মেয়াদ বাড়িয়ে আরও কিছু বছর বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে পারেন। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয় করতে চাইলে এই স্কিমে বাড়তি সময় টাকা রাখার সুযোগ রয়েছে। আর যে ২৫ লাখ টাকার ফান্ড এবং ৭ লাখ টাকার বেশি সুদ পাওয়ার হিসেবটি বলা হয়েছে, সেটি ১০ বছর ধরে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়ার একটি হিসেবের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
