পোস্ট অফিসের বাম্পার হিট স্কিম, শুধু সুদ থেকেই পাবেন ২ লক্ষ টাকার বেশি!

-

বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন এবং এমন জায়গায় টাকা রাখতে চাইছেন, যেখানে নিরাপত্তার পাশাপাশি ভালো রিটার্নও পাওয়া যাবে? তাহলে পোস্ট অফিসের সরকারি সঞ্চয় প্রকল্পগুলি আপনার জন্য একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এই ধরনের প্রকল্পে সরকারের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকায় ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। এর মধ্যেই রয়েছে পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্কিম (Post Office Time Deposit Scheme), যেখানে একবার টাকা বিনিয়োগ করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রেখে দিলে সুদের মাধ্যমে ভালো আয় করা সম্ভব। এমনকি বিনিয়োগের পরিমাণ ও মেয়াদ ঠিকভাবে বেছে নিলে শুধুমাত্র সুদ থেকেই ২ লক্ষ টাকার বেশি আয় হতে পারে। তাই এই স্কিমে বিনিয়োগের আগে এর সুদের হার, মেয়াদ, ন্যূনতম বিনিয়োগ এবং অন্যান্য সুবিধাগুলি জেনে নেওয়া জরুরি।

পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্কিম কী?

পোস্ট অফিসের টাইম ডিপোজিট স্কিমে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের আর্থিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ বছর, ২ বছর, ৩ বছর কিংবা ৫ বছরের জন্য এককালীন টাকা জমা রাখতে পারেন। মেয়াদ অনুযায়ী এই স্কিমে সুদের হারও আলাদা। বর্তমানে ১ বছরের টাইম ডিপোজিটে ৬.৯%, ২ বছরের ক্ষেত্রে ৭%, ৩ বছরের জন্য ৭.১% এবং ৫ বছরের টাইম ডিপোজিটে সর্বোচ্চ ৭.৫% সুদ পাওয়া যায়। ফলে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে টাকা রেখে তুলনামূলকভাবে বেশি সুদ পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। বিশেষ করে যারা ঝুঁকি কম রেখে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সঞ্চয় করতে চান, তাদের কাছে ৫ বছরের টাইম ডিপোজিট আকর্ষণীয় হতে পারে।

- Advertisement -

মাত্র ১০০০ টাকা থেকে বিনিয়োগ, মিলবে করছাড়ের সুবিধা

পোস্ট অফিসের টাইম ডিপোজিট স্কিমে বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হল কম টাকা দিয়ে শুরু করার সুযোগ এবং করছাড়ের সুবিধা। এই স্কিমে মাত্র ১০০০ টাকা দিয়েই বিনিয়োগ শুরু করা যায়, ফলে সাধারণ সঞ্চয়কারীরাও সহজে এতে টাকা রাখতে পারেন। পাশাপাশি ৫ বছরের টাইম ডিপোজিটে বিনিয়োগ করলে Income Tax Act, 1961-এর Section 80C-এর অধীনে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত করছাড়ের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

সিঙ্গল অথবা জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা

পোস্ট অফিসের টাইম ডিপোজিট স্কিমে বিনিয়োগকারীদের জন্য সিঙ্গল এবং জয়েন্ট—দুই ধরনের অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ নিজের নামে যেমন অ্যাকাউন্ট খোলা যায়, তেমনই একাধিক ব্যক্তি মিলে জয়েন্ট অ্যাকাউন্টও খুলতে পারেন। এই স্কিমে মাত্র ১০০০ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করা সম্ভব এবং বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমাও নির্দিষ্ট নেই। ফলে নিজের আর্থিক সামর্থ্য ও লক্ষ্য অনুযায়ী বেশি টাকা বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ যত বাড়বে, সুদ থেকে সম্ভাব্য আয়ের পরিমাণও তত বাড়বে।

- Advertisement -

কীভাবে শুধু সুদ থেকেই ২ লক্ষ টাকার বেশি আয় করবেন?

পোস্ট অফিসের টাইম ডিপোজিটে পরিকল্পনা করে বিনিয়োগ করলে শুধু সুদ থেকেই ২ লক্ষ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব। এর জন্য ৫ বছরের মেয়াদের টাইম ডিপোজিট বেছে নিয়ে এককালীন ৪.৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। ৭.৫ শতাংশ বার্ষিক সুদের হারে পোস্ট অফিসের হিসেব অনুযায়ী, ৫ বছর শেষে ম্যাচিওরিটির সময় মোট ৬,৫২,৪৭৭ টাকা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ বিনিয়োগ করা ৪.৫ লক্ষ টাকা বাদ দিলে সুদ হিসেবে পাওয়া যাবে ২,০২,৪৭৭ টাকা। ফলে একবারে ৪.৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ৫ বছর অপেক্ষা করলেই ২ লক্ষ টাকার বেশি সুদ আয়ের সুযোগ রয়েছে।

- Advertisement -

যত বেশি বিনিয়োগ, তত বেশি সম্ভাব্য রিটার্ন

পোস্ট অফিসের টাইম ডিপোজিটে বিনিয়োগের পরিমাণ এবং মেয়াদ অনুযায়ী সুদের আয়ের পরিমাণও বাড়ে। তাই বিনিয়োগকারীরা নিজেদের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী মেয়াদ ও বিনিয়োগের পরিমাণ বেছে নিতে পারেন। যেমন, ৩ বছরের মেয়াদে ২ লক্ষ টাকার বেশি সুদ পেতে চাইলে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা এককালীন বিনিয়োগ করতে হবে। ৭.১ শতাংশ সুদের হারে ৩ বছর শেষে এই বিনিয়োগ থেকে প্রায় ২,৩৫,০৭৫ টাকা সুদ পাওয়া যাবে। অর্থাৎ ম্যাচিওরিটির সময় মোট পাওয়া যাবে প্রায় ১২,৩৫,০৭৫ টাকা। তাই বিনিয়োগের পরিমাণ যত বেশি হবে, নির্দিষ্ট সুদের হারে সম্ভাব্য রিটার্নের অঙ্কও তত বাড়বে।

Breaking News