আজকাল অনেকেই বাড়িতে কুকুর-বিড়াল পোষেন, আর ধীরে ধীরে সেই পোষ্যই পরিবারের একেবারে আপন সদস্য হয়ে ওঠে। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বাড়ি ফিরে দরজার সামনে প্রিয় পোষ্যকে দেখলে মন ভালো হয়ে যায়। তবে অনেক সময় আদরের বিড়ালও হঠাৎ ভয়, রাগ বা অস্বস্তির কারণে আঁচড়ে বা কামড়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ছুটতে হয় হাসপাতালে। কিন্তু তাতে খানিক দেরি হয়ে যায়, তাই সেই সময় সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন (Prevention Tips After Cat Bites) সবটাই জেনে নিন বিস্তারিত।
বিড়াল আঁচড়ালেই বিপদ
বিড়াল শুধু বাড়িতে রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, তার আচরণ, শরীরের পরিবর্তন ও বিভিন্ন রোগ-লক্ষণ সম্পর্কেও অভিভাবকদের সচেতন থাকা খুব জরুরি। অনেক সময় ছোটখাটো উপসর্গকে সাধারণ ভেবে এড়িয়ে গেলে পরে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বিড়ালের নখ খুব ধারালো হওয়ায় খেলতে গিয়েও অনেক সময় মালিকদের আঁচড় লাগে। অনেকেই বিষয়টিকে হালকাভাবে নিলেও, এই আঁচড় থেকে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কী কী করতে হবে?
১। বিড়ালের আঁচড় লাগলে প্রথমেই ক্ষতের অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। যদি আঁচড় খুব হালকা হয় এবং সেখান থেকে রক্ত না বেরোয়, তাহলে আক্রান্ত জায়গায় অল্প অ্যান্টিসেপটিক মলম লাগালেই সাধারণত সমস্যা হয় না। তবে ক্ষতস্থান থেকে যদি ধীরে ধীরে রক্ত বের হতে থাকে, তাহলে বিষয়টি একেবারেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে সাবান ও পরিষ্কার জল দিয়ে জায়গাটি ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। কারণ অনেক সময় শুধু অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করলে নখে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু পুরোপুরি নষ্ট হয় না, কিন্তু সাবান জল জীবাণু পরিষ্কার করতে অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা নেয়।
২। বিড়ালের আঁচড় লাগার পর ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি তরল অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, সাবান ও জল দিয়ে জায়গাটি ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার পর ডেটল বা স্যাভলনের মতো অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। তবে এগুলি সরাসরি বেশি মাত্রায় না লাগিয়ে নির্দেশ অনুযায়ী জল মিশিয়ে ব্যবহার করা ভালো। পাশাপাশি ক্ষতস্থান পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে হবে।
৩। বিড়ালের আঁচড়ের পর রক্তপাত বন্ধ হয়ে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যান্ড-এইড লাগিয়ে ঢেকে দেওয়া সবসময় ঠিক নয়। কারণ ক্ষতস্থানে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রথমে জায়গাটি পরিষ্কার ও শুকনো রাখা বেশি জরুরি। তবে যদি আঁচড়ের জায়গায় ব্যথা বাড়তে থাকে, ফোলা বা লালভাব দেখা দেয়, কিংবা দীর্ঘক্ষণ ধরে রক্ত চুঁইয়ে পড়তে থাকে, তাহলে আর দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
৪। বিড়ালের আঁচড়ের পর অনেকের শরীরে কয়েক দিনের মধ্যেই জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা বা হাত-পায়ে তীব্র ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সংক্রমণকে ‘ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ’ বলা হয়। সাধারণত বিড়ালের নখের মাধ্যমে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করলে এই সমস্যা হতে পারে। তাই আঁচড় লাগার পর শরীরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, জ্বর বা ব্যথা শুরু হলে বিষয়টি একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ শুরু করা জরুরি।
