রাজ্যজুড়ে বর্তমানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্পের ফর্ম পূরণের কাজ চলছে এবং আবেদন করা যাচ্ছে অনলাইন ও অফলাইন— দুই পদ্ধতিতেই। অফলাইনে আবেদনকারীদের তুলনামূলকভাবে বড় ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে, যেখানে পরিবার ও সামাজিক অবস্থার বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৯ নম্বর পাতায় সামাজিক মর্যাদা, নির্ভরশীল সদস্যদের তথ্য এবং পরিবারের শিশুদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
বেসরকারি স্কুলে পড়ালে মিলবে না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার
পূর্ব মেদিনীপুরের রেয়াপাড়ায় আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে কারা সুবিধা পাবেন তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য যাচাই করেই উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের শিশুদের শিক্ষা, সরকারি পরিষেবার ব্যবহার এবং অন্যান্য তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি তিনি টিকাকরণ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন এবং বলেন, সরকারি বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণে অনীহা থাকলে শুধুমাত্র আর্থিক সুবিধার জন্য আবেদন করাকে সরকার গুরুত্ব দেবে না।
প্রসঙ্গত, আবেদনপত্রের ৯ নম্বর পাতায় পরিবারে কতজন শিশু সদস্য রয়েছে, সেই শিশুদের নাম, সে কোন স্কুলে পড়ে, এমনকি সরকারি নাকি বেসরকারি স্কুলে নাকি মাদ্রাসায় পড়ে, কোন ক্লাসে পড়ে সমস্ত তথ্য দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটির টিকাকারণ হয়েছে কিনা তাও জানাতে চাওয়া হচ্ছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী এখানেই আটকে যেতে পারে অনেক মহিলার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ৩০০০ টাকা।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের অফলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারী এবং পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে বেশি তথ্য চাওয়া হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যে পরিবারের সদস্যদের নাম, পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য, আধার ও ভোটার কার্ডের তথ্য, রেশন কার্ডের তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ ও আইএফএসসি কোডের মতো তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বীমা সংক্রান্ত তথ্য, পরিবারের সদস্যদের পেশা, আনুমানিক আয়, যানবাহন রয়েছে কি না এবং বসতবাড়ির ধরন সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হতে পারে। অন্যদিকে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে কম তথ্য দিতে হতে পারে এবং মূল পরিচয় যাচাইয়ের তথ্য দিয়েই আবেদন শুরু করা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
