শুনতে অবাক লাগলেও, এমন এক বিরল রংয়ের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা যার দাম নাকি সোনার থেকেও বেশি। ইংল্যান্ডে খননকার্যের সময় আবিষ্কৃত হয় রোমান যুগের দুটি প্রাচীন সমাধি। তার মধ্যে একটি সমাধিতে এক থেকে দু’বছর বয়সি এক শিশুর দেহের পাশে শায়িত অবস্থায় পাওয়া যায় দুই পূর্ণবয়স্ক মানুষের কঙ্কাল। আর সেই সমাধি থেকেই মিলেছে অত্যন্ত দামী ও বিরল এক বিশেষ রঞ্জকের চিহ্ন, যা নিয়ে এখন ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
অন্য সমাধিটিতে পাওয়া যায় কয়েক মাস বয়সি এক শিশুর দেহ। আশ্চর্যের বিষয়, দুই সমাধিতেই মৃতদেহগুলি মোড়ানো ছিল অত্যন্ত দামি কাপড়ে, যার উপর ছিল সোনার জরির সূক্ষ্ম কাজ। সেই কাপড়ের রং পরীক্ষা করতে গিয়েই গবেষকেরা চমকে ওঠেন। তাঁরা জানতে পারেন, কাপড়ে ব্যবহার করা হয়েছিল ‘টাইরিয়ান পার্পল’ নামে এক বিরল বেগুনি রং, যা প্রাচীন যুগে অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করা হত। ইতিহাসবিদদের মতে, এই বিশেষ রং তৈরি করা হত সামুদ্রিক শামুক থেকে, আর তার বিরলতা ও তৈরির জটিলতার কারণেই একসময় এর দাম সোনার থেকেও বেশি ছিল।
দামি কাপড় ও সোনার জরিতে মোড়া ছিল মৃতদেহ
‘টাইরিয়ান পার্পল’ নামে পরিচিত এই বেগুনি রং প্রাচীন যুগে এতটাই দুষ্প্রাপ্য ছিল যে তার মূল্য অনেক সময় সোনাকেও ছাপিয়ে যেত। ইতিহাসবিদদের মতে, এই রং তৈরি করা হত ‘মুরেক্স সি স্নেল’ নামে এক ধরনের সামুদ্রিক শামুক থেকে। বিপুল সংখ্যক শামুক সংগ্রহ করে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অল্প পরিমাণ রং তৈরি করা যেত বলেই এটি ছিল অত্যন্ত বিরল ও ব্যয়বহুল। সেই কারণে রাজপরিবার, অভিজাত শ্রেণি বা অত্যন্ত ধনী ব্যক্তিরাই মূলত এই রংয়ের কাপড় ব্যবহার করার সুযোগ পেতেন।
১০ হাজার শামুক থেকে মিলত মাত্র ১ গ্রাম রং
ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় ১০ হাজার মুরেক্স শামুক থেকে মাত্র ১ গ্রাম টাইরিয়ান পার্পল রং তৈরি করা সম্ভব হত। তাই এই রং পাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং ব্যয়বহুল। শুধু কাঁচামাল সংগ্রহই নয়, রং তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিও ছিল দীর্ঘ ও জটিল। শামুক থেকে নির্দিষ্ট উপাদান বের করে বিশেষ পদ্ধতিতে তা প্রক্রিয়াকরণ করতে অনেক সময় লাগত। সেই কারণেই প্রাচীন যুগে এই বেগুনি রং ছিল রাজকীয় ঐশ্বর্য ও উচ্চবিত্ত মর্যাদার প্রতীক।
এই কারণেই প্রাচীন যুগে টাইরিয়ান পার্পল রংয়ের মূল্য অনেক সময় সোনার চেয়েও বেশি ছিল। সাধারণ মানুষের পক্ষে এই রংয়ের কাপড় কেনা বা ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভবই ছিল। মূলত রাজপরিবার, অভিজাত শ্রেণি এবং অত্যন্ত ধনী পরিবারের মানুষরাই এই বিরল বেগুনি রংয়ের পোশাক পরার সামর্থ্য রাখতেন। তাই টাইরিয়ান পার্পল শুধু একটি রং নয়, বরং সে সময় সামাজিক মর্যাদা, ঐশ্বর্য এবং ক্ষমতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হত।
