গত ৪ মে ভোটগণনার দিন সকালে রাজ চক্রবর্তী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছিলেন যে তিনি জয়ী হবেন। কিন্তু ব্যারাকপুর কেন্দ্রের ফলাফল অন্য ছবি তুলে ধরে। গণনা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই কেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে আসার সময় স্থানীয়দের একাংশ তাঁর দিকে চটি ও কাদা ছুড়ে বিক্ষোভ দেখান। আর সেই ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা পরিচালক রাজ চক্রবর্তী—রাজনীতির ময়দানে তাঁর লড়াই শেষ। অর্থাৎ সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন রাজ চক্রবর্তী
এবছর All India Trinamool Congress ফের ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল রাজ চক্রবর্তী-কে। আর প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই নিজের জয় নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন জনপ্রিয় এই পরিচালক। নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে বারবার সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি দাবি করেছিলেন, ব্যারাকপুর কেন্দ্রে তাঁর জয় একপ্রকার নিশ্চিত। শুধু তাই নয়, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরেও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ বলেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তিনিই জিতবেন। এমনকি ভোট গণনার দিন সকালেও তাঁর গলায় ছিল প্রবল আত্মবিশ্বাসের সুর। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যেন পুরো ছবিটাই বদলে গেল।
ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন সকাল থেকেই একের পর এক আসনে তৃণমূলকে টেক্কা দিতে শুরু করেছিল বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। ব্যালট গণনার শুরু থেকেই গেরুয়া শিবির অনেকটাই এগিয়ে ছিল রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দলের তুলনায়। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান বজায় রেখেই বাংলায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ার পথে এগিয়ে যায় বিজেপি। একইসঙ্গে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকেও বিজেপি প্রার্থী Kaustav Bagchi-র কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যান রাজ চক্রবর্তী। যদিও ফল প্রকাশের আগেই গণনা কেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখা যায়—‘চোর চোর’ স্লোগানের পাশাপাশি ছোড়া হয় কাদা ও চটি। আর এই ঘটনার পরই কার্যত রাজনৈতিক জীবন থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন রাজ।
সদ্য নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে রাজ চক্রবর্তী লিখেছেন, “জীবনে যখনই কোনও দায়িত্ব পেয়েছি, নিষ্ঠা এবং সততার সাথে পালন করেছি। চেষ্টা করেছি নিজের সবটুকু দেওয়ার। একজন পরিচালক হিসেবে সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে সব সময় আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কখনও জিতেছি, কখনও হেরেছি।” এদিন নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে বর্ণনা দিতে দিতেই কয়েক লাইনেই রাজ জানিয়ে দেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পথ চলা শেষ হল। বাংলায় যে সরকার আসছে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি আশা করছেন, নতুন সরকারের হাত ধরে বাংলার মানুষের উন্নতি হবে।
