ইএমআই (EMI) বকেয়া থাকলেই আর ফোনে ভয় দেখানো বা মানসিক হয়রানি করা যাবে না। এতদিন অনেক ক্ষেত্রেই ঋণের কিস্তি দিতে দেরি হলে রিকভারি এজেন্টদের পক্ষ থেকে বারবার ফোন, অশালীন ভাষায় কথা বলা কিংবা চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠত। এবার সেই ধরনের হয়রানিতে লাগাম টানতে কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। আরবিআই স্পষ্ট জানিয়েছে, ঋণ আদায়ের নামে কোনও গ্রাহককে অপমান করা, হুমকি দেওয়া বা তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা রিকভারি এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
EMI নিয়ে বড় নির্দেশ ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের
ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়েছে, ঋণের ইএমআই দিতে দেরি হলেই আর কোনও ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা রিকভারি এজেন্ট গ্রাহককে হুমকি দিতে, অশালীন ভাষায় কথা বলতে বা মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না। এছাড়া অচেনা বা লুকোনো নম্বর থেকে ফোন করা, গ্রাহকের আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাপ সৃষ্টি করা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি প্রকাশ করে অপদস্থ করার মতো কাজও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আরবিআই জানিয়েছে, এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন এই নিয়ম ১ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ইএমআই বকেয়া থাকলেও গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে শুধুমাত্র সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে। তবে গ্রাহক নিজে সম্মতি দিলে এই সময়ের বাইরে কথাবার্তা বলা যেতে পারে। এছাড়া কোনও রিকভারি এজেন্টকে গ্রাহকের বাড়িতে পাঠানোর প্রয়োজন হলে অন্তত এক দিন আগে এসএমএস, ইমেল বা অন্য কোনও গ্রহণযোগ্য মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে হবে। বাড়িতে যাওয়ার সময় এজেন্টের কাছে বৈধ পরিচয়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। এর উদ্দেশ্য হল ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিয়ন্ত্রিত এবং গ্রাহক-বান্ধব করে তোলা।
এর পাশাপাশি ঋণ সংক্রান্ত যোগাযোগের কল রেকর্ড ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নূন্যতম ৬ মাস সংরক্ষণ করে রাখতে হবে বলে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আর যদি এই নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনও গ্রাহককে অযথা হয়রানি করা হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এছাড়া অভিযোগ নিষ্পত্তি পোর্টালে আধিকারিকদের বিবরণ জমা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
