রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গতকালই নবান্ন ঈদের ছুটি কমানোর নির্দেশ দেয়, আর এবার ঈদের নামাজের স্থান নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এবার থেকে রেড রোডের বদলে ব্রিগেডে ঈদের নামাজ পড়তে হবে। কয়েকদিন ধরেই এই নিয়ে নানা মহলে জল্পনা চলছিল, আর এবার সেই জল্পনাতেই কার্যত সিলমোহর পড়ল নবান্নের সিদ্ধান্তে।
রেড রোডে আর নামাজ পড়া যাবে না
পূর্বের সরকারের আমলে এমন বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ। বিগত কয়েক বছর ধরে ঈদের সকালে রেড রোডের নামাজের মঞ্চে মাথায় কাপড় বেঁধে উপস্থিত হতে দেখা যেত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সাম্প্রতিক সময়ে একই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তৃণমূল নেত্রী মমতার সঙ্গে তাঁর উত্তরসূরী হিসেবে পরিচিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দেখা গিয়েছিল।
রাজ্যে পালাবদলের পর অনেকের মধ্যেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে, এমন বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে হয়তো আর রেড রোডের নামাজের মঞ্চে দেখা যাবে না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পাশাপাশি, নতুন সরকার রেড রোডে ঈদের নামাজের আয়োজন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছিল বিভিন্ন মহলে। অবশেষে সেই জল্পনারই অবসান ঘটিয়ে নবান্ন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এ বছর থেকে রেড রোডে আর নামাজের মঞ্চ তৈরি হবে না। পরিবর্তে, ঈদের নামাজের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে ব্রিগেড প্রাঙ্গণে।
বলাই বাহুল্য, কলকাতার রেড রোডের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে। সামরিক কুচকাওয়াজ বা অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা পথ সভার জন্য প্রয়োজন হয় ফোর্ট উইলিয়ামের অনুমোদন। কয়েকটি সূত্র মারফত খবর, গত বছরই সেনাবাহিনীর তরফে নামাজের প্রধান আয়োজক খিলাফত কমিটিকে খুব পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নিরাপত্তার স্বার্থে রেড রোডে আর নামাজের আয়োজন করা যাবে না। তবে শোনা যায়, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিশেষ অনুরোধে সাময়িক ছাড়পত্র দিয়েছিল সেনাবাহিনী। তবে এবার সরকার বদল হতেই রাজ্যের সহযোগিতা পাচ্ছে সেনারা।
জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের তরফে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে রেড রোডে সেনাবাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও অস্বস্তি তৈরি করে এমন কোনও অনুষ্ঠান আর আয়োজন করা হবে না। বিশেষ করে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও পৃথক আয়োজনের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই কারণেই এবার থেকে সংবিধান ও প্রযোজ্য আইন মেনে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে খিলাফত কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সব আয়োজকদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
