সাদিকুল খান, কলকাতাঃ আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিধানসভা উপনির্বাচন। তার পাঁচ দিন আগে, আজ বৃহস্পতিবার রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের হয়ে প্রচারে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, দুই মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ ও গার্গী দাস ঘোষ এবং রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নেমেছেন।
শুভেন্দুর সভার আগে জোর প্রস্তুতি
মুখ্যমন্ত্রীর সভাকে ঘিরে রেজিনগরে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শক্তিপুরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি দলীয় কর্মীরাও। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে এমনিতেই রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। আজ বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে শক্তিপুর প্রভাত সংঘের মাঠে জনসভা করার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সভাকে সফল করতে ইতিমধ্যেই মাঠ প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার কাজ জোরকদমে চলছে।
সভাস্থল ও তার আশপাশের এলাকায় মঞ্চ তৈরি, মাঠ পরিষ্কার-প্রস্তুত করা-সহ একাধিক কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সভায় যাতে বেশি সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হতে পারেন, সেজন্য দলীয় কর্মী-সমর্থকরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি সভাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে এই সভাকে ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। সভা সফল করতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত দলের কর্মীরা।
মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ জানান, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি কীভাবে তাদের সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করছে, সভায় মুখ্যমন্ত্রী সেই বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরবেন। অন্যদিকে, বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজনের দাবি, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র তৈরি হওয়ার পর থেকে এলাকার মানুষ বিজেপি ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলকেই ভোট দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও রেজিনগরের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। মলয় মহাজনের দাবি, এবার সেই পুরনো রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে বিজেপিকে জেতানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেজিনগরের মানুষ। তাঁর কথায়, বিজেপি প্রার্থী জয়ী হলেও রাজ্য সরকারের পরিবর্তন হবে না বা নতুন মুখ্যমন্ত্রীও আসবেন না। তবে বিজেপি জিতলে এলাকার মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে দাবি তাঁর।
তিনি আরও বলেন, বিজেপি প্রার্থী জয়ী হলে রেজিনগরের মানুষ ভাগীরথী নদীর উপর নতুন সেতু পাবেন। পাশাপাশি শিল্পতালুকে শিল্প গড়ে ওঠা, কলেজ ও রাস্তা নির্মাণ এবং সাধারণ মানুষের কাছে সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ারও দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের নির্বাচনে রেজিনগর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর। পরে নওদা কেন্দ্রটি রেখে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। এবারের উপনির্বাচনে রেজিনগর থেকে নিজের ছেলেকে প্রার্থী করেছেন হুমায়ুন। ইতিমধ্যেই তাঁর একাধিক বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে আজকের সভা থেকে হুমায়ুনকে নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী কোনও মন্তব্য করেন কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।
