Homeপশ্চিমবঙ্গআরজি কর মামলায় ফের ধাক্কা! বিচারপতি মান্থার বেঞ্চও সরে দাঁড়াল

আরজি কর মামলায় ফের ধাক্কা! বিচারপতি মান্থার বেঞ্চও সরে দাঁড়াল

-

আরজি কর কাণ্ডের-এর বিচারপ্রক্রিয়ায় ফের বড়সড় জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের পর এবার এই স্পর্শকাতর মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার-র ডিভিশন বেঞ্চও। মঙ্গলবার শুনানি শুরু হতেই বিচারপতি মান্থা জানান, সময়ের অভাবের কারণেই তিনি এই মামলার শুনানি চালিয়ে যেতে পারছেন না। তাঁর মতে, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিশদ শুনানির প্রয়োজন, যা বর্তমানে তাঁর বেঞ্চের পক্ষে সম্ভব নয়। সেই কারণেই ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটি ফের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন বেঞ্চ গঠন করে পরবর্তী শুনানির ব্যবস্থা করা যায়। এদিকে আদালত থেকে বেরিয়ে নির্যাতিতার মা গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “এসবের সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি।”

আরজি কর মামলায় ফের অচলাবস্থা

এদিনের শুনানিতে Central Bureau of Investigation-এর তদন্তের ভূমিকা নিয়ে আদালতে তীব্র বাদানুবাদ দেখা যায়। সিবিআই একটি মুখবন্ধ খামে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিলেও, নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, এতদিন পরেও কেন ঘটনাটিকে গণধর্ষণের ধারায় মামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি, সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ থাকা ১০টি ক্ষতচিহ্নের বিষয়টি কেন গুরুত্ব পায়নি, তা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি ঘটনার দিন ওই তলায় ঘোরাফেরা করা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের এখনও পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ না করার বিষয়েও প্রশ্ন তুলে সিবিআই-এর তদন্তের সদিচ্ছা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

- Advertisement -

অন্যদিকে, সিবিআই এর আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার দাবি করেন যে, তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে।  প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ফুটেজ এবং ১৪ জন চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সিবিআই নিশ্চিত হয়েছে যে এটি একজনের দ্বারাই সংঘটিত অপরাধ।  তবে শিয়ালদহ আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তাঁরা মূল অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি নিয়ে অনড় রয়েছেন।

অমিত শাহের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা

এরই মধ্যে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে জুডিশিয়াল কমিশন গঠন নিয়ে। শুনানির সময় বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাজ্য সরকার সম্ভবত এই মামলার তদন্তে একটি বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠনের পথে হাঁটতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগেও অমিত শাহও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ফলে পুরো বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একের পর এক বিচারপতির এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানো এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনেও এখন বড় প্রশ্ন—RG Kar Medical College incident-এর নির্যাতিতা কি আদৌ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন? আপাতত পরবর্তী শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি কোন বেঞ্চ গঠন করেন, সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।

- Advertisement -
- Advertisement -
Breaking News
- Advertisement -
Related Stories
- Advertisement -