বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় (Sabitri Chatterjee)-এর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের মুকুটে যোগ হল আরও একটি বড় সম্মান। টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি (Techno India University) তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অফ লিটারেচার (D.Litt.) উপাধিতে সম্মানিত করেছে। এই বিশেষ স্বীকৃতি গ্রহণের পর আবেগঘন হয়ে নিজের শৈশবের দিন, পরিবার এবং অভিনয়জীবনের নানা অজানা স্মৃতি তুলে ধরেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। তাঁর কথায় উঠে আসে দীর্ঘ পথচলার সংগ্রাম, ভালোবাসা এবং বাংলা সিনেমার প্রতি তাঁর গভীর টান, যা উপস্থিত সকলের মন ছুঁয়ে যায়।
ডি.লিট সম্মান পাওয়ার পর নিজের ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, শৈশবে তাঁর স্বপ্ন ছিল রাজনীতির জগতে পা রাখা। তৎকালীন পূর্ববঙ্গের দিনগুলির কথা মনে করে অভিনেত্রী বলেন, এক নেতার বক্তব্য শুনে তাঁর মধ্যেও নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল। সেই সময় থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। যদিও পরবর্তীতে অভিনয় জগতেই তাঁর পরিচয় তৈরি হয় এবং বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অসামান্য প্রতিভার মাধ্যমে তিনি কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় মজা করে বলেন, শেষ পর্যন্ত নেতা হওয়া হয়নি, বরং তিনি হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, জীবনে মানুষ অনেক কিছু চায়, কিন্তু সব ইচ্ছা পূরণ হয় না। আবার অনেক সময় না চাইলেও এমন কিছু সুযোগ আসে, যা জীবনকে অন্য পথে নিয়ে যায়। তাঁর নিজের জীবনযাত্রাও যেন তারই এক উদাহরণ।
সম্মান গ্রহণের মঞ্চে নিজের পরিবারের একটি আবেগঘন স্মৃতিও সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। অভিনেত্রী জানান, তাঁদের পরিবারে কোনও ছেলে সন্তান ছিল না। তাঁর জন্মের আগে পরিবারের অনেকেরই আশা ছিল, এবার হয়তো পুত্রসন্তান আসবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কন্যাসন্তান হিসেবেই তাঁর জন্ম হয়। সেই সময়ের পারিবারিক পরিবেশ ও স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর জীবনযাত্রা প্রমাণ করেছে, কন্যাসন্তানও নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার এবং সমাজের গর্ব হয়ে উঠতে পারে।
