রাজ্যে আজ, ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে ১৬তম জনগণনা। এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নাগরিকরা অনলাইনে সেলফ-এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। এরপর ১৬ আগস্ট থেকে এক মাস ধরে সরকারি আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জমা দেওয়া তথ্য যাচাই করবেন। যাঁরা অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের ক্ষেত্রেও চিন্তার কিছু নেই। সরকারি কর্মীরাই বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে জনগণনার কাজ সম্পূর্ণ করবেন।
পশ্চিমবঙ্গে শুরু হল ১৬তম জনগণনা, কীভাবে হবে তথ্য সংগ্রহ?
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯০.৮২ লক্ষ ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৬৩.৬৬ লক্ষ নাম বাদ যায়। পরে ট্রাইব্যুনালের পর্যালোচনা এবং অন্যান্য বিচারাধীন প্রক্রিয়ার পর আরও ২৭.১৬ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া লক্ষাধিক মানুষের আবেদন এখনও বিচারাধীন
নাম বাদ যাওয়ার পর বিপুল সংখ্যক মানুষ আপিলেট ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। তবে ভোটের আগে ট্রাইব্যুনালের রায়ে মাত্র ১,৬০৭ জনের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাকি আবেদনগুলির বেশিরভাগই তখন বিচারাধীন ছিল এবং এখনও সেগুলির নিষ্পত্তি হয়নি। এই প্রসঙ্গেই অনুপ্রবেশ ও নাগরিকত্ব ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা সব মানুষকে একই দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। তিনি বলেন, একদিকে রয়েছেন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, অন্যদিকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীরা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আইন অনুযায়ী অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।
SIR-এ নাম বাদ পড়লেও জনগণনায় কোনও প্রভাব পড়বে কি?
নিয়ম অনুযায়ী জনগণনা (Census) এবং এসআইআর (SIR) সম্পূর্ণ আলাদা দুটি প্রক্রিয়া। তাই কারও নাম SIR-এ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা তাঁর আবেদন এখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে বলেই তিনি জনগণনার বাইরে চলে যাবেন, এমন নয়। জনগণনার সময় সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওই ঠিকানায় বসবাসকারী প্রত্যেক ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করবেন। অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তি যদি সেই ঠিকানায় বসবাস করেন এবং জনগণনার সময় প্রয়োজনীয় তথ্য দেন, তাহলে তাঁর তথ্য জনগণনার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
CAA নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য
একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান ও পারসি সম্প্রদায়ের মানুষদের অনুপ্রবেশকারী বলা যাবে না, তাঁরা শরণার্থী। তিনি কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তির উল্লেখ করে দাবি করেন, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪-এর মধ্যে ভারতে আসা যোগ্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা হবে না এবং তাঁদের পুলিশি হয়রানিও করা যাবে না।
একবার তথ্য দিলেই কি বারবার নথি জমা দিতে হবে না?
এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবারের জনগণনায় প্রতিটি পরিবারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তাঁর দাবি, এই তথ্যভান্ডারের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সরকারি পরিষেবা, বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় শংসাপত্র প্রদান আরও সহজ ও দ্রুত করা সম্ভব হবে। একবার তথ্য নথিভুক্ত হয়ে গেলে নাগরিকদের বারবার একই নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজনও অনেকটাই কমে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
