প্রচণ্ড গরমে অনেকেরই মুখে র্যাশ, ঘামাচি বা ছোট ছোট লাল গুটি বেরোতে দেখা যায়। অতিরিক্ত ঘাম, ধুলোবালি এবং ত্বকে তেল জমার কারণেই এই সমস্যা বাড়ে। এ প্রসঙ্গে রামপুরহাট শহরের বিশিষ্ট চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চঞ্চল দাস জানান, গরমের সময় বিশেষ করে গালজুড়ে ছোট লাল গুটি, চুলকানি ও জ্বালাভাব খুব সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক ক্ষেত্রেই র্যাশ বা ঘামাচির কারণে অস্বস্তি এতটাই বেড়ে যায় যে দৈনন্দিন কাজ করতেও সমস্যা হয়। তাই এই সময় ত্বক পরিষ্কার রাখা, অতিরিক্ত রোদ এড়ানো এবং ঘাম হলে দ্রুত মুখ ধুয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি (Skin Rash Remedy)।
শুধু মুখেই নয়, এই গরমে গলা, ঘাড়, হাত-পা কিংবা শরীরের অন্যান্য অংশেও ঘামাচি ও র্যাশের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত বা যাঁরা দীর্ঘক্ষণ ধুলোবালির মধ্যে কাজ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি হয়। র্যাশ থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই বিভিন্ন ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করেন, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে সব ধরনের কসমেটিক্সে থাকা কেমিক্যাল সবসময় ত্বকের জন্য ভালো নয়। অনেক সময় এগুলো ত্বকের ক্ষতি বা অ্যালার্জির কারণও হতে পারে। তাই গরমের এই সময়ে ত্বকের যত্নে যতটা সম্ভব ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপায়ের উপর ভরসা রাখাই ভালো।
অতিরিক্ত গরমে অনেক সময় ত্বকের ঘর্মগ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঘাম ঠিকভাবে বাইরে বেরোতে না পেরে ত্বকের নীচেই আটকে থাকে। আর তখনই ছোট ছোট লাল গুটি, চুলকানি, জ্বালাভাব ও র্যাশের সমস্যা দেখা দেয়। ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই সমস্যা আরও বাড়ে। বিশেষ করে গালের ত্বক তুলনামূলকভাবে বেশি স্পর্শকাতর হওয়ায় সেখানে র্যাশ ও ঘামাচির দাগ বেশি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।
এই প্রচণ্ড গরমে ভারী ক্রিম, অতিরিক্ত প্রসাধনী বা তেলজাতীয় পণ্য কিছুদিনের জন্য এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এগুলি ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ করে দেয়, ফলে ঘাম ঠিকমতো বেরোতে না পেরে র্যাশ ও ঘামাচির সমস্যা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি বালিশের কভার, তোয়ালে বা মুখ মোছার রুমাল নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও খুব জরুরি। মুখ মুছেই তোয়ালে বা রুমাল পরিষ্কার জলে ধুয়ে ফেললে ত্বকে জীবাণু ও ময়লা জমার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
ঘরোয়া উপায়ে র্যাশ ও চুলকানি কমানোর টিপস
ঘামাচি বা র্যাশ দেখা দিলেই তাড়াহুড়ো করে নানা ধরনের ক্রিম ব্যবহার না করাই ভালো। তার বদলে পরিষ্কার কাপড়ে কয়েকটি বরফের টুকরো মুড়ে কয়েক মিনিট গালে চেপে ধরে রাখলে জ্বালাভাব ও চুলকানি অনেকটাই কমতে পারে। পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত ঝাল, তেলেভাজা খাবার বা কম জল খাওয়ার অভ্যাস শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যার প্রভাব ত্বকেও পড়ে। ফলে গরমে র্যাশ ও ঘামাচির সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।
গরমে হওয়া র্যাশ বা ঘামাচির সমস্যায় কিছু ঘরোয়া উপায় বেশ উপকারী হতে পারে। অ্যালোভেরা জেল লাগালে ত্বক ঠান্ডা থাকে এবং লালচে ভাব ও জ্বালাভাব অনেকটাই কমে। এছাড়া ওটস গুঁড়ো করে স্নানের জলে মিশিয়ে সেই জল দিয়ে স্নান করলে ত্বকের চুলকানি ও অস্বস্তি কমতে সাহায্য করে। নারকেল তেলও এই সময় উপকারী, কারণ এতে প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজিং গুণ রয়েছে, যা ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে আরাম দেয় এবং চুলকানি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
