রাজস্থানের জয়পুরে যুব আন্দোলনের মঞ্চে আচমকাই তৈরি হল উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। নিটের প্রশ্নফাঁস, বেকারত্ব এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি নিয়ে আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচির মাঝেই হামলার শিকার হন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ঘটনাকে ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভস্থলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সূত্রের খবর, জয়পুরের শহীদ স্মারকে আয়োজিত ওই বিক্ষোভ সভায় অংশগ্রহণ করতে গিয়েছিলেন অভিজিত দীপকে। ছাত্র যুবদের নানারকম সমস্যা তুলে ধরতে যেখানে উপস্থিত হন তিনি। অভিযোগ, সেই সময়ই আচমকা এক যুবক তাঁর কাছে এসে পরপর কয়েকটি চড় মারেন। এমনকি পুরো ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে। এরপরে বিক্ষোভস্থলে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
অভিযুক্তকে ঘিরেই বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভ
ঘটনার পর আন্দোলনস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মঞ্চের সামনে থাকা বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত যুবককে আটক করেন। অভিযোগ, এরপর উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হামলার পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ব্যক্তিগত কারণ ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার জেরে এলাকায় নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এদিনের আন্দোলনের মূল ইস্যু ছিল নিট প্রশ্নফাঁস, সরকারি চাকরিতে অনিয়ম, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি। জাতীয় পতাকা, পোস্টার ও ব্যানার হাতে বহু তরুণ-তরুণী সেখানে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের পোস্টারে লেখা ছিল “দেশকে ভালোবাসি, দুর্নীতি মানি না” এবং “পেপার লিক বন্ধ করো”। আন্দোলনে বহু অভিভাবকও যোগ দেন, এমনকি কয়েকজন মহিলা তাঁদের ছোট সন্তানদের নিয়েও প্রতিবাদে সামিল হন।
বিক্ষোভকারীদের একাংশ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, বারবার প্রশ্ন ফাঁস এবং নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারের মুখে পড়ছে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শহীদ স্মারকের গেটে একটি বড় ককরোচের ছবিও আঁকা হয়। আর তার পাশেই লেখা ছিল “ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দাও”। তবে এর মধ্যেই আচমকা অভিজিতের উপর চলে হামলা, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে জলঘোলা।
