সাদিকুল খান, কলকাতাঃ নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই বিধানসভা কেন্দ্রে মঙ্গলবার উপনির্বাচন। তার আগে জোরকদমে চলছে বিভিন্ন দলের প্রচার। শুক্রবার নন্দীগ্রামে বিজেপি মনোনীত প্রার্থী হাঁসিরানী রথের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে বিরুলিয়া মহেশ্বর বাজার এলাকায় জনসভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের নাম তুলে ধরে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, ‘বড় চোরও জেলে যাবে’। পাশাপাশি চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় ‘ভাইপো গ্যাং’ জড়িত বলে অভিযোগও করেন তিনি।
মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তার আগে শুক্রবার প্রচারে এসে ফের সুমিত রায়ের প্রসঙ্গ তুললেন শুভেন্দু অধিকারী। শালবনির জমি জালিয়াতির মামলায় গত ১০ সেপ্টেম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট রোডের বাড়ি থেকে সুমিত রায়কে গ্রেফতার করেছিল CID। সেই প্রসঙ্গ টেনে নন্দীগ্রামের জনসভা থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘বড় চোরও জেলে যাবে’। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, ‘বড় চোর’ বলতে কাকে ইঙ্গিত করেছেন শুভেন্দু? উপনির্বাচনের ঠিক আগে সুমিত রায়ের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দুর এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্যই বা কী?
সভা থেকে সুমিত রায়ের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সব দল থাকবে, তৃণমূলের নাম আর নিশান থাকবে না। আজ নামও নেই, নিশানও নেই, প্রার্থীও নেই।” এরপর তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “এত পাপ, এত অত্যাচার করেছে, যার কোনও সীমা-পরিসীমা নেই।” সুমিত রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “কাজাহার থেকে সুমিত রায়, সব চোরেরা তো জেলে। বড় চোর কবে যাবে? বড় চোরও জেলে যাবে।”
নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা-কে। ভোটের ফল প্রকাশের পর গুলি করে চন্দ্রনাথকে খুন করা হয়েছিল। এদিন নন্দীগ্রামে ভোটপ্রচারে গিয়ে ফের সেই খুনের ঘটনা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করা শুটাররা উত্তরপ্রদেশের, তাঁদের নিয়োগ করেছিলেন বিহারের মুঙ্গেরের এক ব্যক্তি। চন্দ্রনাথের সঙ্গে থাকা ও কাজ করা এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁদের যোগাযোগ হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, ওই ঘটনায় ‘ভাইপো গ্যাং’-এর মাধ্যমে ২ কোটি টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, CBI তদন্তে ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে জেলে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি ২ কোটি টাকা কোথা থেকে গিয়েছিল, ডায়মন্ড হারবারের একটি কোম্পানির সঙ্গে সেই যোগসূত্রের তদন্ত এখনও বাকি।
