পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সামনে এসেছে। রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ (Training) কর্মসূচির কথা উল্লেখ রয়েছে। এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শিক্ষক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য, কারা এতে অংশ নেবেন এবং কীভাবে এটি পরিচালিত হবে—এসব বিষয় নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের কোনো সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক বা শিক্ষিকা হয়ে থাকেন, তাহলে এই নতুন নির্দেশিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
রাজ্যের শিক্ষকদের জন্য বড় আপডেট
স্কুল শিক্ষা দফতরের প্রকাশিত চিঠি অনুযায়ী, আগামী ২৯ জুন থেকে ৩ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত ‘বধির-অন্ধত্ব অন্বেষণ: সমাজকে ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক একটি অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। এই প্রশিক্ষণ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার চালানোর জন্য শিক্ষকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিটি বিশেষভাবে উত্তর ২৪ পরগনা ও ব্যারাকপুর জেলার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক শিক্ষা), জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক শিক্ষা), উত্তর ২৪ পরগনা এবং উত্তর ২৪ পরগনার সমস্ত সার্কেল লেভেল রিসোর্স সেন্টার (CLRC)-এর প্রকল্প সমন্বয়কারীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ট্রেনিং শুরু হবে দুপুর ১২:৪৫ থেকে চলবে ১:৪৫ অবধি। উল্লেখ্য, Deafblindness বা দৃষ্টি ও শ্রবণ—উভয় প্রতিবন্ধকতার সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল অবস্থা, যা একজন ব্যক্তির যোগাযোগ, চলাফেরা ও তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করে। এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে CIET-NCERT ও Sense International India যৌথভাবে এই বিশেষ বিষয়টির ওপর পাঁচ দিনের অনলাইন প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। সূত্রের খবর, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হতে চলেছে।
জারি বিজ্ঞপ্তি
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি সম্পূর্ণ অনলাইন মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এই প্রশিক্ষণে কি সব শিক্ষকের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক? আবার কেউ মত প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমানে কোভিড পরিস্থিতি না থাকায় সরাসরি (অফলাইন) প্রশিক্ষণই বেশি কার্যকর হতে পারত, কারণ মুখোমুখি আলোচনার মাধ্যমে শেখার সুযোগ আরও বেশি থাকে। অন্যদিকে, কেউ কেউ অনলাইন প্রশিক্ষণকে কম খরচে আয়োজনের একটি উপায় বলেও মন্তব্য করেছেন। তবে এগুলি সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত, সরকারি অবস্থান নয়। রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিতে শিক্ষক সমাজকে যুক্ত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
