বলিউডের চাঁদনি শ্রীদেবী ও বনি কাপুরের সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল চলচ্চিত্র নির্মাতা বনি কাপুরের একতরফা ভাললাগা থেকে, যা পরে গভীর প্রেমে পরিণত হয়। একটি তামিল ছবিতে শ্রীদেবীর অভিনয় দেখেই তাঁর প্রেমে পড়েছিলেন বনি কাপুর। শোনা যায়, ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ছবিতে শ্রীদেবীকে নায়িকা হিসেবে নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেন্নাই পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে প্রথমে শ্রীদেবীর সঙ্গে দেখা করতে না পারলেও হাল ছাড়েননি বনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ছবিতে অনিল কাপুরের বিপরীতে শ্রীদেবীকে অভিনয় করান। সেই কাজের সূত্রেই ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং পরবর্তীতে তা বিয়েতে গড়ায়। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একসঙ্গে থাকার পরও শ্রীদেবী ও বনি কাপুরের সম্পর্ক বলিউডের অন্যতম আলোচিত প্রেমকাহিনি হয়ে রয়েছে।
বনি কাপুরের প্রস্তাবে কেন রেগে গিয়েছিলেন শ্রীদেবী?
তবে বনি কাপুর যখন শ্রীদেবীর কাছে নিজের ভালবাসার কথা প্রকাশ করেন, তখন অভিনেত্রী ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন এবং বেশ কয়েক মাস তাঁর সঙ্গে কথাও বলেননি। ১৯৯৫ সালে শ্রীদেবীর মা আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। সেই কঠিন সময়ে বনি শ্রীদেবী ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এর আগে ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে মুম্বই বিস্ফোরণের পর বাসস্থানের সমস্যায় পড়ে শ্রীদেবী কিছু সময়ের জন্য বনি কাপুর ও তাঁর স্ত্রী মোনা শৌরির বাড়িতেও ছিলেন। সে সময় শ্রীদেবী ও বনির মধ্যে যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তা মোনা জানতেন না বলেই জানা যায়। বরং তিনি শ্রীদেবীকে সাদরে গ্রহণ করেছিলেন এবং কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
গোপনে বিয়ে করেছিলেন শ্রীদেবী ও বনি কাপুর
শ্রীদেবীর সঙ্গে বনি কাপুরের সম্পর্কটি শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল, কারণ সেই সময় বনি মোনা শৌরি কাপুরের সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁদের দুই সন্তান অর্জুন ও অংশুলা কাপুরও ছিল। শ্রীদেবীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই শেষ পর্যন্ত মোনার সঙ্গে বনির দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। এরপর শ্রীদেবীকে বিয়ে করার পর তাঁকেও তীব্র জনসমালোচনার মুখে পড়তে হয়। ১৯৯৬ সালের ২ জুন শিরডিতে একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বনি কাপুর ও শ্রীদেবী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শুরুতে তাঁদের বিয়ের খবর অনেকটাই গোপন রাখা হয়েছিল। পরে ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে শ্রীদেবীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তাঁরা তাঁদের সম্পর্কের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আনেন।
জাহ্নবী ও খুশির জন্ম
১৯৯৭ সালের ৬ মার্চ শ্রীদেবী ও বনি কাপুর তাঁদের প্রথম কন্যা জাহ্নবী কাপুরকে স্বাগত জানান। এরপর ২০০০ সালের নভেম্বরে জন্ম হয় তাঁদের দ্বিতীয় কন্যা খুশি কাপুরের। অন্যদিকে, মোনা শৌরি কাপুর নিজের জীবনকে নতুনভাবে এগিয়ে নিয়ে যান এবং অর্জুন কাপুর ও অংশুলা কাপুরকে একাই বড় করেন। ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৫৪ বছর বয়সে দুবাইয়ের একটি হোটেলের বাথটাবে দুর্ঘটনাবশত ডুবে শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়। একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি দুবাই গিয়েছিলেন এবং সেই সময় বনি কাপুরও সেখানে ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে কাপুর পরিবার থেকে শুরু করে গোটা চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছিল গভীর শোকের ছায়া। শ্রীদেবীর মৃত্যুর পর তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হলেও সরকারি তদন্তে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত ডুবে মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
