পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যাচ্ছে নতুন সরকারকে। অবৈধ টোলপ্লাজা বন্ধ করা থেকে শুরু করে সরকারি চাকরিতে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি কিংবা বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ— একাধিক ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। এবার গোহত্যা বন্ধ নিয়েও বড় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি সামনে এসেছে। নবান্নের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোটা রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা ও রাজনৈতিক বিতর্ক।
শংসাপত্র ছাড়া গোহত্যা নিষিদ্ধ
রাজ্য সরকারের তরফে জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট শংসাপত্র বা আইনি অনুমতি ছাড়া কোনওভাবেই গোহত্যা করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে জেল ও মোটা অঙ্কের জরিমানার মতো শাস্তির মুখেও পড়তে হতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে গোহত্যা নিয়ে নতুন আইন
প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ধর্মীয় উৎসব বা ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান— কোনও ক্ষেত্রেই এই নিয়ম অমান্য করা যাবে না। বিশেষ করে প্রকাশ্যে গোহত্যার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে কোনও নেতিবাচক প্রভাব বা উত্তেজনা তৈরি না হয়, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ম ভাঙলে কঠোর শাস্তিরও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
তবে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্যে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠনের একাংশ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, গবাদি পশুর সুরক্ষা এবং ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রাখার জন্য এমন কড়া নিয়ম প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার পক্ষে থাকা কিছু মানুষ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। তাঁদের মতে, ধর্মীয় রীতি ও ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়ে সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
