লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজ্যে। অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে প্রকল্পের টাকা ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে একাধিক পুরুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছিল। এই অভিযোগের তদন্তে ইতিমধ্যেই পুলিশ একের পর এক গ্রেপ্তারি অভিযান শুরু করেছে। এরই মধ্যে তদন্তকে আরও জোরদার করতে নবান্ন থেকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনার উৎস ও জালিয়াতির নেপথ্যের চক্রকে চিহ্নিত করতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কী বলছেন শুভেন্দু অধিকারী?
আজ, সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখনও পর্যন্ত মোট ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে। যেখান থেকে পুরুষদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকছে। ১টি অ্যাকাউন্ট রাকিবুলের, আরও ১৫টি মুস্তাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী তুহিনার, বাকি ৬টি অ্যাকাউন্ট তারিকুল রহমানের। দুর্নীতির সংখ্যা আরও বাড়বে।” এরপরই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ১২ পাতার দীর্ঘ ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত নেতা এবং দলের লোকেদের বলব এই সংখ্যাটা কত হবে জানি না, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা তো পাচ্ছেন, হাজার হাজার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুঠ করেছেন, আমরা কাউকে ছাড়ব না।”
বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠনের নির্দেশ
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভুয়ো প্রাপকদের চিহ্নিত করতে রাজ্যে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হতে পারে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি ডিজি-কে সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আর্থিক তছরূপের অভিযোগেও মামলা করা হবে। তাঁর দাবি, প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা তোলা হয়েছে বলে তাঁদের হিসাব থেকে উঠে এসেছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তৃণমূলের বিভিন্ন স্তর পর্যন্ত তদন্তের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি কাটমানি সংক্রান্ত অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সাধারণ মানুষকে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়ে আশ্বাস দেন যে প্রমাণ মিললে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই প্রকল্পকে ঘিরে বিরোধীরা বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রকল্পটি নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা গিয়েছে এবং বহু মানুষ ইতিমধ্যেই ফর্ম পূরণের জন্য এগিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে অনলাইন পরিষেবাও চালু হয়ে গিয়েছে, ফলে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। মুখ্যমন্ত্রীর আশা, আগামী বুধবারের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র জমা পড়বে এবং সেই দিনই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রকল্প সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
