সাদিকুল খান , কলকাতাঃ যাদবপুরে আজ ‘বন্দে মাতরম কর্মসূচি’ ঘিরে ১০ হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে সেখানে একসঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হয়। অনুষ্ঠানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে চলা বিতর্ক নিয়েও একাধিকবার মুখ খোলেন তিনি। সেখান থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর হুঙ্কার, ‘পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের দখল নেব আমরা’।
যাদবপুরের কর্মসূচিতে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে আসে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ ও বলিদানের প্রসঙ্গ। সেখান থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘থ্রেট কালচার’ চলে বলে দাবি করেন তিনি এবং রাষ্ট্রবাদী পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের জোর করে হোস্টেল থেকে মিছিলে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ তোলেন। ‘আজাদি’ স্লোগান প্রসঙ্গে তিনি ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঋষি অরবিন্দ, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিনয়-বাদল-দীনেশ ও মাস্টারদা সূর্যসেন-সহ একাধিক স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। আপনারা কীসের আজাদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার আজাদি? ড্রাগ নেওয়ার আজাদি? টুকরে টুকরে গ্যাং!’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পহেলগাঁও হামলায় শহিদ বাঁশদ্রোণীর বিটন অধিকারী ও বেহালার সমীর গুহের মৃত্যুতে যাদবপুরে কোনও মিছিল বের করা হয়নি, এমনকি অবন্তীপুরায় সিআরপিএফ জওয়ানরা শহিদ হলেও সেভাবে শোকপ্রকাশ করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, এর পরিবর্তে অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে যাদবপুরে মিছিল হয়েছে এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধেও মিছিল বের করা হয়েছে। এদিন যাদবপুরের কর্মসূচি থেকে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সেখানে হয় এই ধরনের মিছিল করা লোকজন থাকবে, নয়তো রাষ্ট্রবাদীরা থাকবে। পাশাপাশি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর পুনর্দখলের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
যাদবপুরের কর্মসূচিতে শুভেন্দু অধিকারী পহেলগাঁও হামলা ও অবন্তীপুরায় সিআরপিএফ জওয়ানদের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে যাদবপুরের সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, পহেলগাঁওয়ে বিটন অধিকারী ও সমীর গুহের মতো বাঙালি হিন্দু পর্যটক খুন হওয়ার পর কিংবা সিআরপিএফ জওয়ানরা শহিদ হওয়ার সময় তাঁদের মিছিল বা শোকপ্রকাশ করতে দেখা যায়নি, অথচ অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে মিছিল হয়েছে। এরপরই তিনি বলেন, ‘হয় এরা থাকবে, নয় আমরা থাকব’, এবং কাশ্মীর নিয়ে ‘আজাদি’ স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে অপারেশন সিঁদুরের কথা উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, ভারতীয় বায়ুসেনা মাসুদ আজহারের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং ভবিষ্যতে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরও পুনর্দখল করা হবে।
