পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এবার বদলে যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারী-র কলকাতার ঠিকানাও। এতদিন কলকাতায় এলে তিনি চিনার পার্কের ফ্ল্যাটে থাকতেন। তবে এবার থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নতুন ঠিকানা হতে চলেছে আলিপুরের সৌজন্য। মূলত ভিভিআইপিদের থাকার জন্য তৃণমূল আমলে তৈরি করা হয়েছিল এই বহুতল ভবনটি। ২০১৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘সৌজন্য’-র উদ্বোধন করেছিলেন। আলিপুরের জাজেস কোর্ট রোডে অবস্থিত এই ভবনেই এবার থেকে থাকার কথা রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
শুভেন্দু অধিকারী-র পৈতৃক বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি এলাকায়। তাঁর বাড়ির নাম ‘শান্তিকুঞ্জ’, যেখানে বাবা-মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা থাকেন। কাঁথিতে গেলে শুভেন্দু সাধারণত এই বাড়িতেই থাকেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজের জন্য কলকাতায় এলে এতদিন তিনি চিনার পার্কের ফ্ল্যাটে থাকতেন। তবে রাজ্যের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এবার বদলাতে চলেছে তাঁর কলকাতার ঠিকানা। সিদ্ধান্ত হয়েছে, এবার থেকে তিনি আলিপুরের সৌজন্য ভবনেই থাকবেন। ইতিমধ্যেই সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর থাকার উপযুক্ত পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যদিও শুভেন্দু অধিকারী কবে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সৌজন্য’-এ থাকতে শুরু করবেন, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর কাঁথির বাড়িতে ফিরলেন শুভেন্দু অধিকারী
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর একাধিক কর্মসূচি সেরে গভীর রাতেই পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি-র পৈতৃক বাড়ি ‘শান্তিকুঞ্জ’-এ ফেরেন শুভেন্দু অধিকারী। ঘরের ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ফিরতেই বাড়ির সামনে ভিড় জমায় অসংখ্য মানুষ ও সমর্থক। ফুলের মালা ও পুষ্পস্তবক দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান স্থানীয়রা। মুখ্যমন্ত্রী বাড়িতে পৌঁছনোর পর নিরাপত্তার কারণে পুলিশের তরফে শান্তিকুঞ্জের সামনে গার্ডরেল বসানো হয়েছিল। তবে পরে অধিকারী পরিবারের অনুরোধেই সেই গার্ডরেল সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিবারের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কোনও অসুবিধা হোক, তা তাঁরা চান না। উল্লেখ্য, রবিবার বিকেল পর্যন্ত শান্তিকুঞ্জেই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
