বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রথম ভারত সফর ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে ঢাকা স্পষ্ট করে দিয়েছে, নয়াদিল্লি সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া জরুরি। সেই পরিবেশ তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে শেখ হাসিনা-সহ বাংলাদেশে চাওয়া অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি সামনে এনেছে ঢাকা। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি বাংলাদেশের
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। পরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। সম্প্রতি ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে। তবে রবিবার বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র শহিদুল করিম জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের প্রকাশ্য বক্তব্যের পর সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে এবং তারেক রহমানের সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি শেখ হাসিনা-সহ অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের কাছে করা অনুরোধের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে ঢাকা। সেই লক্ষ্যেই শেখ হাসিনা-সহ অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতকে দ্রুত পদক্ষেপ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শহীদ ওসমান হাদির হত্যা মামলায় অভিযুক্তদেরও বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এ কে এম শহিদুল করিম জানিয়েছেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আবেদন করা হয়েছে এবং এখন নয়াদিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
