তৎকাল টিকিট বুকিংয়ে দালালচক্র ও স্বয়ংক্রিয় বটের দৌরাত্ম্য রুখতে শুরু থেকেই কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় রেল (Indian Railways)। যাত্রীদের স্বচ্ছ ও নিরাপদ টিকিট বুকিং পরিষেবা দিতে ইতিমধ্যেই একাধিক নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি লোকসভায় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, তৎকাল টিকিট বুকিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চালু রয়েছে। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপগুলির ফলে সাধারণ যাত্রীরা আগের তুলনায় অনেক সহজে ও নির্ভরযোগ্যভাবে তৎকাল টিকিট বুক করতে পারবেন। জরুরি প্রয়োজনে টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে, কারণ অবৈধ বুকিং ও কৃত্রিমভাবে টিকিট দখলের প্রবণতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তৎকাল টিকিটে দালালদের দাপাদাপি বন্ধ করল রেল
PTI-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোকসভায় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন যে, রেলের টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে অবৈধ পরিচয়পত্র ও বেআইনি সফটওয়্যারের ব্যবহার কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বুকিং পরিষেবা নিশ্চিত করতে আধার-ভিত্তিক প্রমাণীকরণ (Aadhaar Authentication) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ট্রেনে ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশন ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এবার স্কুলে ফিঙ্গারপ্রিন্টে হাজিরা! বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার
না বললেই নয়, সাম্প্রতিক সময় রেলের টিকিট শুধুমাত্র বৈধ যাত্রীদের হাতে তুলে দিতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে রেল। টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে দালালদের দাপাদাপি আটকাতে আধার কার্ডের প্রমাণিকরণের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সাথে সাথে গত পাঁচ বছরে অর্থাৎ চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত 22,600 এরও বেশি অবৈধ ব্যক্তি অর্থাৎ দালালদের গ্রেফতার করা হয়েছে। 3.04 কোটি সন্দেহজনক ইউজার আইডি সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করেছে রেল। এছাড়াও 6.22 কোটি আইডি বর্তমানে যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
রেলমন্ত্রী আরও জানান, যাত্রীদের স্বার্থে টিকিট বুকিং ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে 57.74 শতাংশ বট অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে এবং 13,343টি সন্দেহজনক ডোমেইন আইডি সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। রেলের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে অবৈধ সফটওয়্যার ও স্বয়ংক্রিয় বটের মাধ্যমে টিকিট দখলের প্রবণতা অনেকটাই কমবে এবং প্রকৃত যাত্রীরা তৎকাল টিকিট বুক করার ক্ষেত্রে বেশি সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও যাতে বট অ্যাকাউন্ট বা দালালচক্র টিকিট বুকিং প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সাইবার নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কাজ চলবে।
